আজ ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুদের মাতা ঝর্না আক্তা বাদী হয়ে তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক রব্বানীসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং-৩১, তারিখ ১৩/০৫/২৬ খ্রি., ধারাঃ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিঃ)মোঃ ফরহাদ বিন করিম মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই গত ১৮/০৫/২০২৬ ইং তারিখে ডিএমপি ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেইট এলাকা থেকে মূল আসামী এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের আড়াপাড়া নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপর শিশু আরিয়ানকে উদ্ধারসহ মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পল্লবী থানার একটি বাসা থেকে নূর-ই-নাসরিনকে গ্রেফতার এবং তার হেফাজত হতে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে শিশুদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্তে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ২ নং আসামী এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন ও কৌশলে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করত। তদন্তে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক শিশু পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ নং আসামী মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত। এসব কারণে তার আর্থিক সংকট সৃষ্টি হলে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এবং দ্রুত টাকা লাভের উদ্দেশ্যে সে নিজের দুই শিশুসন্তানকে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের কাছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
বিজ্ঞ আদালতে ২২ ধারায় শিশু শিশু আরিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব সংবাদ : 























