ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রূপগঞ্জে ইউএনও’র নেতৃত্বে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যেভাবে উত্থান সাতক্ষীরার নায়েব শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্যের মহারাণী হয়ে ওঠা   খুলনায় ইয়াবার বড় চালানসহ স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার খুলনায় গভীর রাতে যুবদল নেতার বাড়িতে গুলি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতা উপল বখতের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা সাতক্ষীরার তালায় বজ্রপাতে কৃষক নিহত আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক, পাশে দাঁড়াল বিজিবি সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে স্বাবলম্বী করল আইএফএসডি ফাউন্ডেশন গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকা থেকে হিরোইনসহ ৪ জন গ্রেফতার

খুলনায় গভীর রাতে যুবদল নেতার বাড়িতে গুলি

তিন মোটরসাইকেলে ছয়জন, ঘরে ঢুকে দুই রাউন্ড ফায়ার; আতঙ্কে পরিবার—নেপথ্যে কারা?

গভীর রাতে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জনের আগমন। এরপর তাদের তিনজন ঢুকে পড়ে বাড়ির ভেতরে। মুহূর্তের মধ্যে পরপর দুই রাউন্ড গুলির শব্দ। একটি গুলি জানালায়, অন্যটি দরজায় আঘাত করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে শুক্রবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন নেতার বাড়িতে গভীর রাতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এর নেপথ্যে কারা এবং কী উদ্দেশ্য ছিল—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামে রাত আনুমানিক ২টার দিকে।
তিন মোটরসাইকেলে ছয়জন
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ২টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি বাহাদুর মুন্সির বাড়ির সামনে আসে। তাদের মধ্যে তিনজন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
গুলির একটি ঘরের জানালায় এবং অপরটি দরজায় লাগে। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় পরিবারের কোনো সদস্য গুলিবিদ্ধ হননি।
গুলির শব্দে বাড়িতে থাকা বাহাদুর মুন্সির মা এবং পাশের ঘরে থাকা তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে ‘কারা কারা’ বলে ডাকাডাকি করেন। পরিবারের সদস্যদের সাড়া পেয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার ধরন দেখে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে চালানো গুলি, নাকি এর পেছনে ছিল আরও বড় কোনো পরিকল্পনা?
হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
বাহাদুর মুন্সি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব। ফলে তাঁর বাড়িকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
পুলিশের তদন্তেই এখন নির্ধারণ হওয়ার কথা—হামলাকারীরা কারা, তারা কোথা থেকে এসেছিল এবং কেন বাহাদুর মুন্সির বাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের
বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং হামলার ধরনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
গভীর রাতে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে গুলি চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হামলাকারীদের সংখ্যা, মোটরসাইকেলের ব্যবহার এবং বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছোড়ার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, হামলাকারীরা যদি শুধু ভয় দেখাতেই এসে থাকে, তাহলে কেন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছোড়া হলো? আবার যদি এর পেছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ থাকে, তাহলে সেই বিরোধের সূত্র কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে। আপাতত ঘটনাস্থলে গুলির চিহ্নই বলে দিচ্ছে—হামলাকারীরা গভীর রাতে একটি নির্দিষ্ট বাড়িকে লক্ষ্য করেই এসেছিল।
তদন্তের অগ্রগতি এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে ইউএনও’র নেতৃত্বে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

খুলনায় গভীর রাতে যুবদল নেতার বাড়িতে গুলি

আপলোড সময় ০৬:২১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

তিন মোটরসাইকেলে ছয়জন, ঘরে ঢুকে দুই রাউন্ড ফায়ার; আতঙ্কে পরিবার—নেপথ্যে কারা?

গভীর রাতে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জনের আগমন। এরপর তাদের তিনজন ঢুকে পড়ে বাড়ির ভেতরে। মুহূর্তের মধ্যে পরপর দুই রাউন্ড গুলির শব্দ। একটি গুলি জানালায়, অন্যটি দরজায় আঘাত করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে শুক্রবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন নেতার বাড়িতে গভীর রাতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এর নেপথ্যে কারা এবং কী উদ্দেশ্য ছিল—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামে রাত আনুমানিক ২টার দিকে।
তিন মোটরসাইকেলে ছয়জন
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ২টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি বাহাদুর মুন্সির বাড়ির সামনে আসে। তাদের মধ্যে তিনজন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
গুলির একটি ঘরের জানালায় এবং অপরটি দরজায় লাগে। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় পরিবারের কোনো সদস্য গুলিবিদ্ধ হননি।
গুলির শব্দে বাড়িতে থাকা বাহাদুর মুন্সির মা এবং পাশের ঘরে থাকা তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে ‘কারা কারা’ বলে ডাকাডাকি করেন। পরিবারের সদস্যদের সাড়া পেয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার ধরন দেখে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে চালানো গুলি, নাকি এর পেছনে ছিল আরও বড় কোনো পরিকল্পনা?
হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
বাহাদুর মুন্সি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব। ফলে তাঁর বাড়িকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
পুলিশের তদন্তেই এখন নির্ধারণ হওয়ার কথা—হামলাকারীরা কারা, তারা কোথা থেকে এসেছিল এবং কেন বাহাদুর মুন্সির বাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের
বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং হামলার ধরনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
গভীর রাতে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে গুলি চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হামলাকারীদের সংখ্যা, মোটরসাইকেলের ব্যবহার এবং বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছোড়ার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, হামলাকারীরা যদি শুধু ভয় দেখাতেই এসে থাকে, তাহলে কেন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছোড়া হলো? আবার যদি এর পেছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ থাকে, তাহলে সেই বিরোধের সূত্র কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে। আপাতত ঘটনাস্থলে গুলির চিহ্নই বলে দিচ্ছে—হামলাকারীরা গভীর রাতে একটি নির্দিষ্ট বাড়িকে লক্ষ্য করেই এসেছিল।
তদন্তের অগ্রগতি এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।