ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চার কর্মকর্তার কারাদণ্ড খুলনায় যুবককে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা শিশু অপহরণকারী সন্দেহে রাজু বিশ্বাসকে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তর ৩ মাস্টার্স পাস করে বাসের চালক রাবেয়া, প্রচলিত ধারণা বদলের প্রত্যয় খুলনায় গণপিটুনিতে শিশু অপহরণকারী নিহত সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ জন গুরুত্বর জখম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আড়াই বছর ধরে থানায় থানায় চাকরি, হদিস নেই এএসআই মোতালেবের খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ শুটার বেলু গ্রেপ্তার খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিস্কৃত নেতা মিঠু গ্রেফতার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা জেলা আইনজীবী থানা জামায়াতের  সেক্রেটারি এডভোকেট লিয়াকত আলীর ইন্তিকাল

শিশু অপহরণকারী সন্দেহে রাজু বিশ্বাসকে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তর ৩

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ০৭:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 22

বাবার অভিযোগ ‘মব’ সৃষ্টি করে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে

খুলনা নগরীর রায়ের মহল এলাকায় শিশু অপহরণকারী সন্দেহে রাজু বিশ্বাস কে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতে আড়ংঘাটা থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ হত্যার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যার বিষয়টি বেশ রহস্যজনক মনে হলেও আড়ংঘাটা থানার ওসি পুলিশ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, স্থানীয় একটি গ্যারেজ মালিক ইব্রাহিম, জিল্লু এবং মিলন শেখ।

এদিকে আজ বুধবার দুপুরের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে ফুলতলায় বাড়ির উদ্দেশ্যে মরদেহ নিয়ে রওনা হয় পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজুকে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে রায়েরমহল এলাকার বড় মসজিদের পাশে রাজু বিশ^াসকে ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয়রা। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় মিম নামের একটি শিশু হাটছিল। এ সময়ে শিশুটির প্রতিবেশি সম্পর্কিত কয়েকজন চাচা অপরিচিত মানুষের সাথে হাঁটতে দেখে সন্দেহে হয়। চিৎকার করতে থাকে ছেলে ধরা বলে।

এক পর্যায়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করতে থাকে তারা। এরপর তা গণপিটনীতে রূপ নেয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সূত্র আরো জানায়, মারধরের ঘটনা স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দেয়। ফোনে যে স্থানের কথা বলা হয় সেখানে গিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে রাজুর অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও তাকে প্রথমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেনি স্থানীয়রা। পরে জোর পূর্বক পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যুর খবর জানা যায়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রাজুর সাথে আরও দুইজন যুবক ছিল। তারা কারা তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা যখন রাজুকে মারধর করছিল তখন ঘটনাস্থল থেকে তারা সটকে পড়ে।

জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: হুমায়ুন কবির বলেন, শিশু মিম ডির্ভোসী বাবা মায়ের সন্তান। সে দাদীর কাছে থাকে। রাজুর সাথে তার কি সম্পর্ক তা জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শিশুটিকে সাথে নিয়ে হাটছিল রাজু। তার চাচারা দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা জড় হয়ে তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে তা গণপিটুনীতে রূপ নেয়। ঘটনাটি ছেলে ধরা বা পরিকল্পিত হত্যাকা- কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণপিটুনী সৃষ্টিকারীদের মধ্যে জিল্লু এবং মিলন শেখ নামের দুইজন থানায় মামলা করতে গেলে তাদেরকে থানায় গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে ইব্রাহিম নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিহত রাজুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ব্যক্তিকে আসামি করেন। এর মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ছেলে ধরা বলে ‘মব’ সৃষ্টি করে আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চার কর্মকর্তার কারাদণ্ড

শিশু অপহরণকারী সন্দেহে রাজু বিশ্বাসকে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তর ৩

আপলোড সময় ০৭:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বাবার অভিযোগ ‘মব’ সৃষ্টি করে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে

খুলনা নগরীর রায়ের মহল এলাকায় শিশু অপহরণকারী সন্দেহে রাজু বিশ্বাস কে গণপিটুনী দিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতে আড়ংঘাটা থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ হত্যার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যার বিষয়টি বেশ রহস্যজনক মনে হলেও আড়ংঘাটা থানার ওসি পুলিশ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, স্থানীয় একটি গ্যারেজ মালিক ইব্রাহিম, জিল্লু এবং মিলন শেখ।

এদিকে আজ বুধবার দুপুরের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে ফুলতলায় বাড়ির উদ্দেশ্যে মরদেহ নিয়ে রওনা হয় পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজুকে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে রায়েরমহল এলাকার বড় মসজিদের পাশে রাজু বিশ^াসকে ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয়রা। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় মিম নামের একটি শিশু হাটছিল। এ সময়ে শিশুটির প্রতিবেশি সম্পর্কিত কয়েকজন চাচা অপরিচিত মানুষের সাথে হাঁটতে দেখে সন্দেহে হয়। চিৎকার করতে থাকে ছেলে ধরা বলে।

এক পর্যায়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করতে থাকে তারা। এরপর তা গণপিটনীতে রূপ নেয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সূত্র আরো জানায়, মারধরের ঘটনা স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দেয়। ফোনে যে স্থানের কথা বলা হয় সেখানে গিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে রাজুর অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও তাকে প্রথমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেনি স্থানীয়রা। পরে জোর পূর্বক পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যুর খবর জানা যায়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রাজুর সাথে আরও দুইজন যুবক ছিল। তারা কারা তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা যখন রাজুকে মারধর করছিল তখন ঘটনাস্থল থেকে তারা সটকে পড়ে।

জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: হুমায়ুন কবির বলেন, শিশু মিম ডির্ভোসী বাবা মায়ের সন্তান। সে দাদীর কাছে থাকে। রাজুর সাথে তার কি সম্পর্ক তা জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শিশুটিকে সাথে নিয়ে হাটছিল রাজু। তার চাচারা দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা জড় হয়ে তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে তা গণপিটুনীতে রূপ নেয়। ঘটনাটি ছেলে ধরা বা পরিকল্পিত হত্যাকা- কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণপিটুনী সৃষ্টিকারীদের মধ্যে জিল্লু এবং মিলন শেখ নামের দুইজন থানায় মামলা করতে গেলে তাদেরকে থানায় গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে ইব্রাহিম নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিহত রাজুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ব্যক্তিকে আসামি করেন। এর মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ছেলে ধরা বলে ‘মব’ সৃষ্টি করে আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়