রাজশাহীর একটি আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও আড়াই বছর ধরে গ্রেপ্তার হননি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোতালেব হোসেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি একাধিক থানায় চাকরি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এক থানা থেকে অন্য থানায় পৌঁছানোর আগেই তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় পরোয়ানা কার্যকর হয়নি বলে মামলার বাদীর অভিযোগ।
সর্বশেষ হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। তাঁর বর্তমান অবস্থানও পুলিশ জানে না বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের একজন কর্মকর্তা।
এএসআই মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আফাজ উদ্দিন একটি চেক-সংক্রান্ত মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
মামলার বাদী আয়নাল হক রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত। তাঁর দাবি, মোতালেব হোসেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট ও মতিহার থানায় কর্মরত থাকার সময় জমির ব্যবসা করতেন। ওই ব্যবসার জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার নেন। আয়নাল হকও তাঁকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ধার দেন। এর বিপরীতে মোতালেব একটি চেক দেন।
আয়নাল হক জানান, ২০২২ সালের ১৮ মে তিনি চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত মোতালেবকে দণ্ড দিলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি বাদীর।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, রায়ের সময় মোতালেব হোসেন ঢাকার গুলশান থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি নরসিংদী, গোপালগঞ্জ হয়ে হবিগঞ্জে বদলি হন। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যে থানায় পাঠানো হয়েছে, সেখানে তিনি আর কর্মরত না থাকায় পরোয়ানা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মজিদ বলেন, এএসআই মোতালেব হোসেন সর্বশেষ বাহুবল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগীর কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে মোতালেবের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বাহুবল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। তবে তিনি পুলিশ লাইন্সে যোগদান করেননি। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে এসআই আবদুল মজিদ বলেন, বিষয়টি তাঁরা জানেন এবং ঢাকার গুলশান থানায় এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব হোসেন গুলশান থানায় কর্মরত থাকার সময় সেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছেছিল। তবে তিনি এর আগেই বদলি হয়ে যাওয়ায় পরোয়ানাটি ‘অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি’ দেখিয়ে আদালতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, মোতালেব হোসেন একসময় ওই থানায় কর্মরত ছিলেন। তবে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছানোর আগেই তিনি বদলি হয়ে গিয়েছিলেন। কোনো থানা এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামি না থাকলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে তা ‘অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি’ দেখিয়ে আদালতকে জানানো হয় বলে তিনি জানান।
এদিকে মোতালেব হোসেনকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মামলার বাদী আয়নাল হক।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এএসআই মোতালেব হোসেনের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জয়নাল আবেদীন জয়,রাজশাহী থেকে 




















