ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় ওএমএস বন্ধ: ১৬ ওয়ার্ডের ৫ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য সংকটে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে খুলনায় মিডিয়া অংশীজনদের সংলাপ খুলনায় মঞ্জুরুল হত্যা মামলার দুই আসামি টুঙ্গিপাড়া থেকে গ্রেফতার রূপগঞ্জে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে বিয়ে, নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আফজালের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ; ১ জন মায়ানমারের নাগরিক আটক তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ! তালায় ধানদিয়া কৃষ্ণনগর সুইচগেট বন্ধ করে খালে পাট পচন, মানবেতর জীবনযাপন জেলেদের তালা এসি ল্যান্ড অফিসে প্রকাশ্যে ধূমপানের অভিযোগ নায়েব তারক চন্দ্রের বিরুদ্ধে  ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত খুলনা চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের দাবি ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের

তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ!

কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ও পাঠদান চালু থাকলেও বাস্তবে সেই মাদ্রাসার স্থানে রয়েছে পেঁপে, বেগুন আর ঢ্যাঁড়শের চাষ। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ঘোনা নারায়ণপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। অথচ এই ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতি বছর উত্তোলন করা হচ্ছে সরকারি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য শত শত সেট বই। সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে বই উত্তোলনের এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত ও পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে নন-এমপিও থাকা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শূন্যতার কারণে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল মোড়ল পাঠদান চালু আছে দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতি বছর ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১০০ থেকে ১৫০ সেট বই উত্তোলন করে আসছিলেন।
​স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোঃ রমজান আলী বিশ্বাস ও মোঃ হাসান অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৫-৬ বছর আগেও মাদ্রাসা প্রধান একইভাবে সরকারি বই উত্তোলন করে ভাঙড়ির দোকানে কেজি দরে বিক্রি করার সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও তিনি ১৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে মর্মে ভুয়া তথ্য দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বই উত্তোলন করেছেন।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে মাদ্রাসার কক্ষ বা ভবন থাকার কথা, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে ৭টি পেঁপে গাছসহ বেগুন, ঢ্যাঁড়শ ও মরিচের গাছ। ক্লাসরুম বা শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই। স্থানীয়দের প্রশ্ন— অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে তোলা সরকারি বই প্রতি বছর কোথায় যায়? তারা এই বই বিক্রয় চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানান, “আমি ১৫০ সেট বই উত্তোলন করিনি। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রতি ক্লাসে ৫-৬ সেট করে বই নিয়েছি।”
​তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছ থেকে আশরাফুল ইসলাম ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই গ্রহণ করেছেন। মাদ্রাসার অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না; তিনি কৌশলে প্রতারণা করেছেন।”
​তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, “চলতি বছর ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই উত্তোলন করা হয়েছে। সরেজমিনে অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি জানার পর তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ (কারণ দর্শানো নোটিশ) জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় ওএমএস বন্ধ: ১৬ ওয়ার্ডের ৫ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য সংকটে

তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ!

আপলোড সময় ১২:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ও পাঠদান চালু থাকলেও বাস্তবে সেই মাদ্রাসার স্থানে রয়েছে পেঁপে, বেগুন আর ঢ্যাঁড়শের চাষ। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ঘোনা নারায়ণপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। অথচ এই ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতি বছর উত্তোলন করা হচ্ছে সরকারি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য শত শত সেট বই। সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে বই উত্তোলনের এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত ও পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে নন-এমপিও থাকা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শূন্যতার কারণে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল মোড়ল পাঠদান চালু আছে দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতি বছর ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১০০ থেকে ১৫০ সেট বই উত্তোলন করে আসছিলেন।
​স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোঃ রমজান আলী বিশ্বাস ও মোঃ হাসান অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৫-৬ বছর আগেও মাদ্রাসা প্রধান একইভাবে সরকারি বই উত্তোলন করে ভাঙড়ির দোকানে কেজি দরে বিক্রি করার সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও তিনি ১৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে মর্মে ভুয়া তথ্য দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বই উত্তোলন করেছেন।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে মাদ্রাসার কক্ষ বা ভবন থাকার কথা, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে ৭টি পেঁপে গাছসহ বেগুন, ঢ্যাঁড়শ ও মরিচের গাছ। ক্লাসরুম বা শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই। স্থানীয়দের প্রশ্ন— অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে তোলা সরকারি বই প্রতি বছর কোথায় যায়? তারা এই বই বিক্রয় চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানান, “আমি ১৫০ সেট বই উত্তোলন করিনি। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রতি ক্লাসে ৫-৬ সেট করে বই নিয়েছি।”
​তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছ থেকে আশরাফুল ইসলাম ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই গ্রহণ করেছেন। মাদ্রাসার অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না; তিনি কৌশলে প্রতারণা করেছেন।”
​তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, “চলতি বছর ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই উত্তোলন করা হয়েছে। সরেজমিনে অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি জানার পর তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ (কারণ দর্শানো নোটিশ) জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”