ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় ওএমএস বন্ধ: ১৬ ওয়ার্ডের ৫ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য সংকটে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে খুলনায় মিডিয়া অংশীজনদের সংলাপ খুলনায় মঞ্জুরুল হত্যা মামলার দুই আসামি টুঙ্গিপাড়া থেকে গ্রেফতার রূপগঞ্জে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে বিয়ে, নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আফজালের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ; ১ জন মায়ানমারের নাগরিক আটক তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ! তালায় ধানদিয়া কৃষ্ণনগর সুইচগেট বন্ধ করে খালে পাট পচন, মানবেতর জীবনযাপন জেলেদের তালা এসি ল্যান্ড অফিসে প্রকাশ্যে ধূমপানের অভিযোগ নায়েব তারক চন্দ্রের বিরুদ্ধে  ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত খুলনা চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের দাবি ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের

প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে বিয়ে, নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আফজালের বিরুদ্ধে

ঢাকার মুগদা, মান্ডা, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং ব্যবসার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. আফজাল হোসেন (৩৪)-এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে আসমা আক্তারকে বিয়ে করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী আসমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২৮(১)(ক) অনুযায়ী ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মো. আফজাল হোসেন ও আসমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আফজাল তার পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ আসমার। বিয়ের পর তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
আসমার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে আফজাল তার ভরণপোষণ ও বাসাভাড়া বহন করতেন না। উল্টো বিভিন্ন সময়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। মান্ডার একটি ভাড়া বাসায় একদিন মারধরের একপর্যায়ে তাকে লাথি মেরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন আসমা। এতে মাথার পেছনে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে তার দাবি। পরে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা তাকে উদ্ধার করেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একই বাসায় আসমা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আসমার দাবি, স্বামী ব্যবসা শুরু করলে সংসার স্বাভাবিক হবে—এমন আশায় তিনি তিন দফায় মোট পাঁচ লাখ টাকা আফজালকে দেন। কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে কী ব্যবসা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ব্যবসার হিসাব জানতে চাইলে আফজাল তার ওপর আরও নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আসমা গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ মুগদা থানায় আফজালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে ভরণপোষণ না দেওয়া, বাসাভাড়া না দেওয়া, দুর্ব্যবহার ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটি এসআই মামুন শেখ দেখবেন বলে আসমাকে জানানো হয়েছিল বলে তার দাবি। তবে পরবর্তীতে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে আফজাল কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি বা মাদকসংক্রান্ত মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে—এমন দাবিও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এই প্রতিবেদকের কাছে কোনো আদালতের নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মুগদা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী আসমা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিয়ের সময় তথ্য গোপন, নির্যাতন ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগের আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় ওএমএস বন্ধ: ১৬ ওয়ার্ডের ৫ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য সংকটে

প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে বিয়ে, নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ আফজালের বিরুদ্ধে

আপলোড সময় ০৬:০১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার মুগদা, মান্ডা, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং ব্যবসার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. আফজাল হোসেন (৩৪)-এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে আসমা আক্তারকে বিয়ে করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী আসমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২৮(১)(ক) অনুযায়ী ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মো. আফজাল হোসেন ও আসমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আফজাল তার পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ আসমার। বিয়ের পর তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
আসমার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে আফজাল তার ভরণপোষণ ও বাসাভাড়া বহন করতেন না। উল্টো বিভিন্ন সময়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। মান্ডার একটি ভাড়া বাসায় একদিন মারধরের একপর্যায়ে তাকে লাথি মেরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন আসমা। এতে মাথার পেছনে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে তার দাবি। পরে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা তাকে উদ্ধার করেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একই বাসায় আসমা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আসমার দাবি, স্বামী ব্যবসা শুরু করলে সংসার স্বাভাবিক হবে—এমন আশায় তিনি তিন দফায় মোট পাঁচ লাখ টাকা আফজালকে দেন। কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে কী ব্যবসা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ব্যবসার হিসাব জানতে চাইলে আফজাল তার ওপর আরও নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আসমা গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ মুগদা থানায় আফজালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে ভরণপোষণ না দেওয়া, বাসাভাড়া না দেওয়া, দুর্ব্যবহার ও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটি এসআই মামুন শেখ দেখবেন বলে আসমাকে জানানো হয়েছিল বলে তার দাবি। তবে পরবর্তীতে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে আফজাল কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি বা মাদকসংক্রান্ত মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে—এমন দাবিও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এই প্রতিবেদকের কাছে কোনো আদালতের নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আফজাল হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মুগদা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী আসমা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিয়ের সময় তথ্য গোপন, নির্যাতন ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগের আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।