গত ৫ই অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ফুটপাতে ইজিবাইক চালকদের ব্যানারে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের ফলে পুরো এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নিজেকে ইজিবাইক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি পরিচয়দানকারী আবু বক্কর।
তার বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে — পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ছবি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত আবু বক্কর ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সাথে এক টেবিলে বসে আছেন। সেই ছবিই তিনি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
*এটা কেন বেআইনি ও প্রতারণা?*
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি পুলিশ পরিচয় না দিলেও, পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে:
*১. দণ্ডবিধি ১৭০ ও ১৭১ ধারা:* কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী না হয়েও সরকারি কর্মচারীর মতো ভাবমূর্তি তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, তাহলে তা দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৭১ ধারায় সরকারি পোশাক বা চিহ্ন ব্যবহারের চেষ্টাও অপরাধ।
*২. দণ্ডবিধি ৪১৫ ও ৪১৯ ধারা (প্রতারণা):* সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো যে, প্রশাসনের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা আছে, এবং সেই বিশ্বাস থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা — এটা প্রতারণার সংজ্ঞায় পড়ে।
*৩. সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩, ধারা ২৩ ও ২৪ (ছদ্মবেশ ও প্রতারণা):* ডিজিটাল মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ, অন্য ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা প্রতারণামূলকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এই আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একজন সংগঠনের নেতা কখনোই পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ব্যক্তিগত ছবি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে সাধারণ ইজিবাইক চালকরা প্রতারিত হন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
_বি.দ্র: অভিযুক্ত আবু বক্করের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।
আনিসুর রহমান মোল্লা 



















