ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রূপগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শিমু’র ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত নবম পে স্কেল, ঘুষের প্রবণতা ও নৈতিকতা তালার হাজরাকাটি গ্রামে নতুন মসজিদ নির্মাণকাজ উদ্বোধন সুন্দরবনের আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম রাজধানীর কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য: বিতর্কের কেন্দ্রে বনানী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে

গত ৫ই অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ফুটপাতে ইজিবাইক চালকদের ব্যানারে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের ফলে পুরো এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নিজেকে ইজিবাইক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি পরিচয়দানকারী আবু বক্কর।

তার বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে — পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ছবি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত আবু বক্কর ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সাথে এক টেবিলে বসে আছেন। সেই ছবিই তিনি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

*এটা কেন বেআইনি ও প্রতারণা?*

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি পুলিশ পরিচয় না দিলেও, পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে:

*১. দণ্ডবিধি ১৭০ ও ১৭১ ধারা:* কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী না হয়েও সরকারি কর্মচারীর মতো ভাবমূর্তি তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, তাহলে তা দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৭১ ধারায় সরকারি পোশাক বা চিহ্ন ব্যবহারের চেষ্টাও অপরাধ।

*২. দণ্ডবিধি ৪১৫ ও ৪১৯ ধারা (প্রতারণা):* সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো যে, প্রশাসনের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা আছে, এবং সেই বিশ্বাস থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা — এটা প্রতারণার সংজ্ঞায় পড়ে।

*৩. সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩, ধারা ২৩ ও ২৪ (ছদ্মবেশ ও প্রতারণা):* ডিজিটাল মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ, অন্য ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা প্রতারণামূলকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এই আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন সংগঠনের নেতা কখনোই পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ব্যক্তিগত ছবি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে সাধারণ ইজিবাইক চালকরা প্রতারিত হন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

_বি.দ্র: অভিযুক্ত আবু বক্করের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে

আপলোড সময় ১০:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গত ৫ই অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ফুটপাতে ইজিবাইক চালকদের ব্যানারে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের ফলে পুরো এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নিজেকে ইজিবাইক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি পরিচয়দানকারী আবু বক্কর।

তার বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে — পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ছবি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত আবু বক্কর ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সাথে এক টেবিলে বসে আছেন। সেই ছবিই তিনি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

*এটা কেন বেআইনি ও প্রতারণা?*

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি পুলিশ পরিচয় না দিলেও, পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে:

*১. দণ্ডবিধি ১৭০ ও ১৭১ ধারা:* কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী না হয়েও সরকারি কর্মচারীর মতো ভাবমূর্তি তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, তাহলে তা দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৭১ ধারায় সরকারি পোশাক বা চিহ্ন ব্যবহারের চেষ্টাও অপরাধ।

*২. দণ্ডবিধি ৪১৫ ও ৪১৯ ধারা (প্রতারণা):* সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো যে, প্রশাসনের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা আছে, এবং সেই বিশ্বাস থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা — এটা প্রতারণার সংজ্ঞায় পড়ে।

*৩. সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩, ধারা ২৩ ও ২৪ (ছদ্মবেশ ও প্রতারণা):* ডিজিটাল মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ, অন্য ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা প্রতারণামূলকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এই আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন সংগঠনের নেতা কখনোই পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ব্যক্তিগত ছবি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে সাধারণ ইজিবাইক চালকরা প্রতারিত হন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

_বি.দ্র: অভিযুক্ত আবু বক্করের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।