ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রূপগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শিমু’র ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত নবম পে স্কেল, ঘুষের প্রবণতা ও নৈতিকতা তালার হাজরাকাটি গ্রামে নতুন মসজিদ নির্মাণকাজ উদ্বোধন সুন্দরবনের আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম রাজধানীর কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য: বিতর্কের কেন্দ্রে বনানী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিকদের কাছে আকুল আবেদন ও বিচার দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজের কন্যা রিতা আক্তার ও পরিবার।
​ঘটনার ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রেক্ষাপট
​নিখোঁজ হারুনুর রশিদের পরিবারে তিনি, তাঁর স্ত্রী শরিফা খানম, এবং দুই মেয়ে ও দুই ছেলে সদস্য রয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করলেও পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত বাংলাদেশে আসা- যাওয়া করতেন।
​চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে অবতরণ করেন। তিনি দেশে এসে ঢাকায় তাঁর মেয়ে রিতা আক্তারের বাসায় ওঠেন।
​নিখোঁজ হওয়া ও জিডি গ্রহণ
​দেশে আসার পর তিনি তাঁর ঢাকার বাসা, গ্রামের বাড়ি এবং স্বজনদের বাসায় যাতায়াত করছিলেন। তবে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখ থেকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। সম্ভাব্য সকল স্থান, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
​পরবর্তীতে উপায়ান্তর না পেয়ে নিখোঁজের স্ত্রী শরিফা খানম ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: …) দায়ের করেন।
​তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি ও সিসিটিভি ফুটেজ
​জিডি করার পর বিমানবন্দর থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে, হারুনুর রশিদ বিমানবন্দর এলাকা অতিক্রম করার সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে তাঁকেও দেখা গেছে। পরিবারের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে হারুনুর রশিদের সন্ধান মিলবে।
​এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার পূর্বে ও পরে হারুনুর রশিদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (CDR), ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ডেটা এবং পাসপোর্টের যাতায়াত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হলে এই নিখোঁজ রহস্যের দ্রুত সমাধান হতে পারে বলে স্বজনেরা মত প্রকাশ করেন।
​সন্দেহের তীর ও পরিবারের বক্তব্য
​পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মো. সাগর, রুসি আক্তার এবং কুমিল্লার জসিম-সজ্জাদসহ কতিপয় ব্যক্তির সাথে নিখোঁজের আর্থিক লেনদেন ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এছাড়াও মো. সাগর ও রুসি আক্তারের সাথে তাঁর যোগাযোগ এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিবর্গের সাথে ১০ ও ১২ সেপ্টেম্বরের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে সুনির্দিষ্ট তদন্ত চালানো হলে এই ঘটনার আসল সত্য উন্মোচিত হতে পারে।
​পরিবারের ৬ দফা জোরোলো দাবি
​সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট নিম্নলিখিত ৬টি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
​১. তদন্ত জোরদার: নিখোঁজ হারুনুর রশিদকে অনতিবিলম্বে উদ্ধারে কার্যকর ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২. মামলা গ্রহণ: বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তর ও তদন্ত ত্বরান্বিত করা।
৩. ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ: বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, সিসিডিআর (CDR), ইমিগ্রেশন তথ্য ও মোবাইল লোকেশন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা।
৪. সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে উল্লিখিত ব্যক্তি ও মোবাইল নম্বরের স্বত্বাধিকারীদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করা।
৫. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান করা।
৬. সুষ্ঠু বিচার: আমেরিকা প্রবাসী নাগরিকের এই অন্তর্ধানের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
​উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজ্ঞ, শাহবাগ ও কলাবাগান এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপলোড সময় ১০:১৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিকদের কাছে আকুল আবেদন ও বিচার দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজের কন্যা রিতা আক্তার ও পরিবার।
​ঘটনার ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রেক্ষাপট
​নিখোঁজ হারুনুর রশিদের পরিবারে তিনি, তাঁর স্ত্রী শরিফা খানম, এবং দুই মেয়ে ও দুই ছেলে সদস্য রয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করলেও পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত বাংলাদেশে আসা- যাওয়া করতেন।
​চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে অবতরণ করেন। তিনি দেশে এসে ঢাকায় তাঁর মেয়ে রিতা আক্তারের বাসায় ওঠেন।
​নিখোঁজ হওয়া ও জিডি গ্রহণ
​দেশে আসার পর তিনি তাঁর ঢাকার বাসা, গ্রামের বাড়ি এবং স্বজনদের বাসায় যাতায়াত করছিলেন। তবে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখ থেকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। সম্ভাব্য সকল স্থান, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
​পরবর্তীতে উপায়ান্তর না পেয়ে নিখোঁজের স্ত্রী শরিফা খানম ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: …) দায়ের করেন।
​তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি ও সিসিটিভি ফুটেজ
​জিডি করার পর বিমানবন্দর থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে, হারুনুর রশিদ বিমানবন্দর এলাকা অতিক্রম করার সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির সাথে তাঁকেও দেখা গেছে। পরিবারের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে হারুনুর রশিদের সন্ধান মিলবে।
​এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার পূর্বে ও পরে হারুনুর রশিদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (CDR), ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ডেটা এবং পাসপোর্টের যাতায়াত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হলে এই নিখোঁজ রহস্যের দ্রুত সমাধান হতে পারে বলে স্বজনেরা মত প্রকাশ করেন।
​সন্দেহের তীর ও পরিবারের বক্তব্য
​পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মো. সাগর, রুসি আক্তার এবং কুমিল্লার জসিম-সজ্জাদসহ কতিপয় ব্যক্তির সাথে নিখোঁজের আর্থিক লেনদেন ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এছাড়াও মো. সাগর ও রুসি আক্তারের সাথে তাঁর যোগাযোগ এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিবর্গের সাথে ১০ ও ১২ সেপ্টেম্বরের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে সুনির্দিষ্ট তদন্ত চালানো হলে এই ঘটনার আসল সত্য উন্মোচিত হতে পারে।
​পরিবারের ৬ দফা জোরোলো দাবি
​সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট নিম্নলিখিত ৬টি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
​১. তদন্ত জোরদার: নিখোঁজ হারুনুর রশিদকে অনতিবিলম্বে উদ্ধারে কার্যকর ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২. মামলা গ্রহণ: বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তর ও তদন্ত ত্বরান্বিত করা।
৩. ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ: বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, সিসিডিআর (CDR), ইমিগ্রেশন তথ্য ও মোবাইল লোকেশন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা।
৪. সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে উল্লিখিত ব্যক্তি ও মোবাইল নম্বরের স্বত্বাধিকারীদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করা।
৫. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান করা।
৬. সুষ্ঠু বিচার: আমেরিকা প্রবাসী নাগরিকের এই অন্তর্ধানের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
​উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজ্ঞ, শাহবাগ ও কলাবাগান এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​