ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রূপগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শিমু’র ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত নবম পে স্কেল, ঘুষের প্রবণতা ও নৈতিকতা তালার হাজরাকাটি গ্রামে নতুন মসজিদ নির্মাণকাজ উদ্বোধন সুন্দরবনের আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম রাজধানীর কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য: বিতর্কের কেন্দ্রে বনানী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান

রাজধানীর কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য: বিতর্কের কেন্দ্রে বনানী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর গুলশান-বনানী ও সংলগ্ন কড়াইল বস্তি এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী থানা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান সরকারের বিরুদ্ধে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, স্পা-বার থেকে শুরু করে মানবপাচার (আদম সিন্ডিকেট) পর্যন্ত বিভিন্ন খাত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দখল

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বনানী এলাকার ১ থেকে ২৮ নম্বর সড়কের ময়লা সংগ্রহের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মারধর ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করে জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় একটি চক্র। এই নিয়ন্ত্রণ বদলের নেপথ্যে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা শাহজাহান সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদাবাজি ও ফুটপাত বাণিজ্য

বনানী কাঁচাবাজার, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানপাট এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান।

বিতর্কিতদের পুনর্বাসন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

অভিযোগ রয়েছে, বনানী-কাকলী এলাকার চিহ্নিত ছিনতাই চক্রের হোতা হেলাল মিয়াকে সরকার পতনের পর নিজের ছত্রচ্ছায়ায় নিয়ে যুবদলের কর্মী হিসেবে পুনর্বাসন করেছেন শাহজাহান। এছাড়া বাবুল দালালের মাধ্যমে আদম সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন স্পা-বার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এই চক্রের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কালাম ও সংবাদকর্মী স্বাধীন জানান, চক্রটির বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি; উল্টো সত্য তুলে ধরায় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা

দলীয় কোনো পদবি না থাকা সত্ত্বেও সরকার পতনের পর শাহজাহান সরকারের রাতারাতি প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। কড়াইল বস্তি এলাকায় তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল রাজকীয় বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শাহজাহানের আপন মামাতো ভাই যুবলীগ নেতা মঞ্জু এবং খালাতো ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিট সভাপতি শিপনের বিগত আমলের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শাহজাহানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করে তিনি নিজের আখের গোছাচ্ছেন, যা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

শাহজাহান সরকারের বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন শাহজাহান সরকার। তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং সাংগঠনিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাশকতার মামলায় একাধিকবার কারাভোগ ও সাজা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

যুবদল ও পুলিশের অবস্থান

যুবদলের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে

রাজধানীর কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য: বিতর্কের কেন্দ্রে বনানী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান

আপলোড সময় ১১:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর গুলশান-বনানী ও সংলগ্ন কড়াইল বস্তি এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী থানা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান সরকারের বিরুদ্ধে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, স্পা-বার থেকে শুরু করে মানবপাচার (আদম সিন্ডিকেট) পর্যন্ত বিভিন্ন খাত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দখল

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বনানী এলাকার ১ থেকে ২৮ নম্বর সড়কের ময়লা সংগ্রহের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মারধর ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করে জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় একটি চক্র। এই নিয়ন্ত্রণ বদলের নেপথ্যে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা শাহজাহান সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদাবাজি ও ফুটপাত বাণিজ্য

বনানী কাঁচাবাজার, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানপাট এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান।

বিতর্কিতদের পুনর্বাসন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

অভিযোগ রয়েছে, বনানী-কাকলী এলাকার চিহ্নিত ছিনতাই চক্রের হোতা হেলাল মিয়াকে সরকার পতনের পর নিজের ছত্রচ্ছায়ায় নিয়ে যুবদলের কর্মী হিসেবে পুনর্বাসন করেছেন শাহজাহান। এছাড়া বাবুল দালালের মাধ্যমে আদম সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন স্পা-বার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এই চক্রের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কালাম ও সংবাদকর্মী স্বাধীন জানান, চক্রটির বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি; উল্টো সত্য তুলে ধরায় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

কড়াইলে ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা

দলীয় কোনো পদবি না থাকা সত্ত্বেও সরকার পতনের পর শাহজাহান সরকারের রাতারাতি প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। কড়াইল বস্তি এলাকায় তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল রাজকীয় বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শাহজাহানের আপন মামাতো ভাই যুবলীগ নেতা মঞ্জু এবং খালাতো ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিট সভাপতি শিপনের বিগত আমলের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শাহজাহানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করে তিনি নিজের আখের গোছাচ্ছেন, যা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

শাহজাহান সরকারের বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন শাহজাহান সরকার। তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং সাংগঠনিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাশকতার মামলায় একাধিকবার কারাভোগ ও সাজা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

যুবদল ও পুলিশের অবস্থান

যুবদলের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।