ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অপপ্রচার ও মানহানী করায় ৪ জনকে আসামী করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলো মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান ভূঁইয়া প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের এএসআই ক্লোজ সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে মঙ্গলবার নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সিলেট কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই! সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ! কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে! সাতক্ষীরার বহুরুপী চৈতালি মুখার্জি, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি! হাইব্রিড নেত্রী  সাতক্ষীরা এলজিইডির মুকুট হীন রাজা হাওলাদারের দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে?

পাবনার পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে আটক ২

পাবনার সদর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার ২৬ জুন দুপুর ১টার দিকে পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইজন কে আটক করা হয়েছে।

নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র। মঞ্জু শেখ সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের জোতকাকুড়িয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সকাল এ দুই পক্ষের লোকজন বালু চরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গেলে আবারও বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে চারপাশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

নিহতের চাচা শেখ আব্দুর রউফ (সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব) বলেন, “চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু সন্ত্রাসী অবৈধভাবে বালু তুলতে গেলে আমার ভাতিজারা তাতে বাধা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং মঞ্জুকে হত্যা করে। সে আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। আমি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন, “ঘটনাটি আমিও শুনেছি। চরতারাপুরের বিএনপি নেতা রউফ শেখ ও রহমত শেখ বংশের একজন মারা গেছেন। প্রশাসনের যেকোনো তদন্তে যদি এই বালু কাটা বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বালু কাটার মতো অবৈধ কাজ আমার সঙ্গে যায় না এবং আমি এসব পছন্দও করি না।”

পাবনার সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালু উত্তোলন কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ নামের একজন নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় দুইজনকে আটক করা সহ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

অপপ্রচার ও মানহানী করায় ৪ জনকে আসামী করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলো মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান ভূঁইয়া

পাবনার পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে আটক ২

আপলোড সময় ১১:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পাবনার সদর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার ২৬ জুন দুপুর ১টার দিকে পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইজন কে আটক করা হয়েছে।

নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র। মঞ্জু শেখ সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের জোতকাকুড়িয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সকাল এ দুই পক্ষের লোকজন বালু চরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গেলে আবারও বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে চারপাশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

নিহতের চাচা শেখ আব্দুর রউফ (সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব) বলেন, “চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু সন্ত্রাসী অবৈধভাবে বালু তুলতে গেলে আমার ভাতিজারা তাতে বাধা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং মঞ্জুকে হত্যা করে। সে আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। আমি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন, “ঘটনাটি আমিও শুনেছি। চরতারাপুরের বিএনপি নেতা রউফ শেখ ও রহমত শেখ বংশের একজন মারা গেছেন। প্রশাসনের যেকোনো তদন্তে যদি এই বালু কাটা বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বালু কাটার মতো অবৈধ কাজ আমার সঙ্গে যায় না এবং আমি এসব পছন্দও করি না।”

পাবনার সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালু উত্তোলন কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ নামের একজন নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় দুইজনকে আটক করা সহ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।