ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলন চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্র দেখার দাবি পঞ্চগড়ের রফিকুল ইসলামের যশোর সদর সাব রেজিস্ট্রার কতৃক রেলগেট প.পাড়ায় নালিশী জমির তদন্ত প্রতিবেদন পেশ হানি ট্র্যাপে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলেকে হত্যা, সুষ্ঠু বিচারের দাবি পরিবারের তালায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু খুলনায় আইজিপির সফরের মধ্যেই যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর তৃতীয় এলসিটির লঞ্চিং বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর না করলে দুর্বল মনে করে মানুষ ——— আইজিপি তালায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫০০ অতিথির ভোজ পণ্ড, কনের অভিভাবককে জরিমানা রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরের অভিযোগ

হানি ট্র্যাপে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলেকে হত্যা, সুষ্ঠু বিচারের দাবি পরিবারের

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়াকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহতের স্বজনেরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ভাই সাইফুদ্দিন মালেক। তিনি বলেন, সাগরকে পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পাঁচ দিন পর, ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা। মামলার নম্বর ৪৪।

নিহতের পরিবার জানায়, সাগরের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। তিনি ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ঢাকায় গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, সম্পর্কের একপর্যায়ে সাগর বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রিয়া তাতে সম্মতি দেননি। পরে তাদের সম্পর্কে অবনতি হলে সাগর চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের দাবি, চট্টগ্রামে অবস্থানকালে গত ১৯ আগস্ট রিয়ার আমন্ত্রণে সাগর ঢাকায় আসেন। ২০ আগস্ট ছিল তার জন্মদিন। তবে ওই দিনই ভাটারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সাগর ২১ আগস্ট চট্টগ্রামে ফেরার জন্য বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট কিনেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রিয়া, সাগরকে বটি হাতে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া পুলিশের বরাত দিয়ে তারা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার মুসা ও এক অজ্ঞাত নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, সাগরের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্টে কারা উপস্থিত ছিলেন, মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার প্রধান আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। এতে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, তদন্ত চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা বা তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে মামলার সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা সাগরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যাচাই, ঘটনার আগে ও পরের ফোনকল, বার্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, সাগরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ। তিনি বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং সাগরের শেষ মুহূর্তের যোগাযোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এটর্নি মি.রেমন্ড আব, যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট মি. মাইকেল ডোনোহো এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা আব্দুল মালেক, ভাই শামীম মালেক ও সালাউদ্দিন মালেকসহ পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন৷

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

হানি ট্র্যাপে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলেকে হত্যা, সুষ্ঠু বিচারের দাবি পরিবারের

আপলোড সময় ০৫:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়াকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহতের স্বজনেরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ভাই সাইফুদ্দিন মালেক। তিনি বলেন, সাগরকে পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পাঁচ দিন পর, ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা। মামলার নম্বর ৪৪।

নিহতের পরিবার জানায়, সাগরের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। তিনি ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ঢাকায় গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, সম্পর্কের একপর্যায়ে সাগর বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রিয়া তাতে সম্মতি দেননি। পরে তাদের সম্পর্কে অবনতি হলে সাগর চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের দাবি, চট্টগ্রামে অবস্থানকালে গত ১৯ আগস্ট রিয়ার আমন্ত্রণে সাগর ঢাকায় আসেন। ২০ আগস্ট ছিল তার জন্মদিন। তবে ওই দিনই ভাটারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সাগর ২১ আগস্ট চট্টগ্রামে ফেরার জন্য বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট কিনেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রিয়া, সাগরকে বটি হাতে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া পুলিশের বরাত দিয়ে তারা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার মুসা ও এক অজ্ঞাত নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, সাগরের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্টে কারা উপস্থিত ছিলেন, মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার প্রধান আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। এতে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, তদন্ত চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা বা তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে মামলার সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা সাগরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যাচাই, ঘটনার আগে ও পরের ফোনকল, বার্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, সাগরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ। তিনি বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং সাগরের শেষ মুহূর্তের যোগাযোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এটর্নি মি.রেমন্ড আব, যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট মি. মাইকেল ডোনোহো এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা আব্দুল মালেক, ভাই শামীম মালেক ও সালাউদ্দিন মালেকসহ পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন৷