ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত শেরে বাংলার নামে পদ্মা সেতু নামকরণের দাবি

আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্যার’ সম্বোধন ও নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনাকে মানহানিকর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নির্ভীক সংবাদ-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, “আমি নৈমিত্তিক ছুটি তো নিতেই পারি। এটা নিয়ে এত কথা লেখার কিছু নেই। সরকারি নিয়মে নৈমিত্তিক ছুটি আমার অধিকার।”
‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয়কে আমি স্যার বলতেই পারি। আসলে স্যার মানে কী, এটাই তো আমার মনে হয় তারা জানেন না। স্যার বলা মানে সম্মান করা। তাহলে এখানে আমার দোষ কী?”
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “কোনো রিপোর্ট করার আগে সম্পূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করা ভালো। আমি আগে যেসব জায়গায় ছিলাম, সব জায়গায়ই দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করেছি। আমার কোনো দুর্নাম নেই। কেন যে এসব নিয়ে সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে, তা আমার জানা নেই। তবে এটা মানহানিকর।”
সাক্ষাৎকার গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিবেদক জানান, কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিকবার ফোন করেও ইউএনওকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্ভীক সংবাদ-এর পক্ষ থেকে একবার ফোন করেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য একটি ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হওয়ার বিষয়টি থেকে সব সময় ফোন ধরেন বা সব সময় সেবা দিতে প্রস্তুত থাকেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তানজিলা তাসনিম বিসিএস ৩৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি রংপুর সিটি করপোরেশন ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ও দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলের নথি, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে কোনো অভিযোগ, বিতর্ক বা সমালোচনা দেখা দিলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও গণমাধ্যমের রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়েই প্রকৃত ঘটনা পাঠকের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
ইউএনও তানজিলা তাসনিম তাঁর বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আলোচনা-সমালোচনাকে মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টি সম্পর্কে জনসাধারণের সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম

আপলোড সময় ০৫:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্যার’ সম্বোধন ও নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনাকে মানহানিকর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নির্ভীক সংবাদ-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, “আমি নৈমিত্তিক ছুটি তো নিতেই পারি। এটা নিয়ে এত কথা লেখার কিছু নেই। সরকারি নিয়মে নৈমিত্তিক ছুটি আমার অধিকার।”
‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয়কে আমি স্যার বলতেই পারি। আসলে স্যার মানে কী, এটাই তো আমার মনে হয় তারা জানেন না। স্যার বলা মানে সম্মান করা। তাহলে এখানে আমার দোষ কী?”
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “কোনো রিপোর্ট করার আগে সম্পূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করা ভালো। আমি আগে যেসব জায়গায় ছিলাম, সব জায়গায়ই দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করেছি। আমার কোনো দুর্নাম নেই। কেন যে এসব নিয়ে সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে, তা আমার জানা নেই। তবে এটা মানহানিকর।”
সাক্ষাৎকার গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিবেদক জানান, কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিকবার ফোন করেও ইউএনওকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্ভীক সংবাদ-এর পক্ষ থেকে একবার ফোন করেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য একটি ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হওয়ার বিষয়টি থেকে সব সময় ফোন ধরেন বা সব সময় সেবা দিতে প্রস্তুত থাকেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তানজিলা তাসনিম বিসিএস ৩৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি রংপুর সিটি করপোরেশন ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ও দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলের নথি, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে কোনো অভিযোগ, বিতর্ক বা সমালোচনা দেখা দিলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও গণমাধ্যমের রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়েই প্রকৃত ঘটনা পাঠকের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
ইউএনও তানজিলা তাসনিম তাঁর বক্তব্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আলোচনা-সমালোচনাকে মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টি সম্পর্কে জনসাধারণের সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।