ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরে ওজনে কারসাজি ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি চাল যাচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি-ব্যঙ্গচিত্র,২৭ মামলার আসামি কামাল প্রধান এখনো প্রকাশ্যে খুলনা ডিবি পুলিশের হাতে বি কোম্পানির সক্রিয় ৫ সন্ত্রাসী গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বর সহ অন্যান্য স্থাপনার বিয়ের সাজ না খুলতেই মৃত্যুর ডাক: নববধূকে রেখে চিরবিদায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন খুলনার বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়: কর্তৃপক্ষ নিরব

বাজেটে বিচার বিভাগ আবারও উপেক্ষিত, সংস্কার ও বিচারক সংকট নিরসনে নেই কার্যকর উদ্যোগ: এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় বিচারপ্রার্থী জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বিচারক সংকট বিদ্যমান থাকলেও এবারের বাজেটে এ সংকট নিরসনের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে বিলম্ব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। বিচার বিভাগের ওপর মামলার চাপ বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিচারক, আদালতকক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি দূরীকরণে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব বিচার ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিবের মতে, বিচারক স্বল্পতার কারণে বহু মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এতে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, “বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে বিচার না পাওয়ারই শামিল।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবারের বাজেটে বিচারক নিয়োগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন কিংবা একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের কোনো উদ্যোগের কথা উল্লেখ নেই। এর ফলে বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন করার সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোনো বরাদ্দ বা পরিকল্পনা না থাকায় বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার অনিশ্চিত থেকে গেছে।

তিনি মনে করেন, একটি কার্যকর, স্বাধীন ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি, আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতির শেষে অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী না করে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই বিচার বিভাগের উন্নয়ন ও সংস্কারকে জাতীয় বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

বাজেটে বিচার বিভাগ আবারও উপেক্ষিত, সংস্কার ও বিচারক সংকট নিরসনে নেই কার্যকর উদ্যোগ: এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

আপডেট সময় ০৫:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় বিচারপ্রার্থী জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বিচারক সংকট বিদ্যমান থাকলেও এবারের বাজেটে এ সংকট নিরসনের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে বিলম্ব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। বিচার বিভাগের ওপর মামলার চাপ বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিচারক, আদালতকক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি দূরীকরণে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব বিচার ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিবের মতে, বিচারক স্বল্পতার কারণে বহু মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এতে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, “বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে বিচার না পাওয়ারই শামিল।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবারের বাজেটে বিচারক নিয়োগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন কিংবা একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের কোনো উদ্যোগের কথা উল্লেখ নেই। এর ফলে বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন করার সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোনো বরাদ্দ বা পরিকল্পনা না থাকায় বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার অনিশ্চিত থেকে গেছে।

তিনি মনে করেন, একটি কার্যকর, স্বাধীন ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি, আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতির শেষে অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী না করে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই বিচার বিভাগের উন্নয়ন ও সংস্কারকে জাতীয় বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”