ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

বেনজিরকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে ধন্যবাদ, দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান বাংলাদেশ কংগ্রেসের

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইন্টারপোলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বেনজির আহমেদসহ বিদেশে আটক থাকা সকল বাংলাদেশি পলাতক আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অতীতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সরকারি ও পুলিশি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ১৭ জন পলাতক আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সংখ্যাটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও নানা আইনি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ একজন বহুল আলোচিত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ দেশের জনগণের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়। তাই তাকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় অতীতের মতো দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে।

অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমরা ইন্টারপোলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেনজির আহমেদসহ বিদেশে আটক সকল বাংলাদেশি পলাতক আসামিকে দ্রুত দেশে হস্তান্তরের জন্য সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন, অর্থপাচার রোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কংগ্রেস মনে করে, কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই বিদেশে অবস্থানরত সকল পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করাই হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদাহরণ।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার

বেনজিরকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে ধন্যবাদ, দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান বাংলাদেশ কংগ্রেসের

আপলোড সময় ০৮:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইন্টারপোলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বেনজির আহমেদসহ বিদেশে আটক থাকা সকল বাংলাদেশি পলাতক আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অতীতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সরকারি ও পুলিশি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ১৭ জন পলাতক আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সংখ্যাটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও নানা আইনি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ একজন বহুল আলোচিত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ দেশের জনগণের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়। তাই তাকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় অতীতের মতো দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে।

অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমরা ইন্টারপোলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেনজির আহমেদসহ বিদেশে আটক সকল বাংলাদেশি পলাতক আসামিকে দ্রুত দেশে হস্তান্তরের জন্য সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন, অর্থপাচার রোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কংগ্রেস মনে করে, কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই বিদেশে অবস্থানরত সকল পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করাই হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদাহরণ।