ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

অধিকাংশ সংসদ সদস্যের চিন্তা এলাকার রাস্তাঘাট-কালভার্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

দেশের অধিকাংশ সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চিন্তা এখনো নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে তাদের বড় একটি অংশ এসব মৌলিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখছেন।

এক বিবৃতিতে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের অনেক জনপ্রতিনিধির মধ্যে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত আগ্রহ, গবেষণা বা দক্ষতা দেখা যায় না।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যান দেশের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের জন্য। কিন্তু বাস্তবে আইন তৈরির অধিকাংশ কাজ আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয় এবং অনেক সংসদ সদস্য প্রস্তাবিত আইন গভীরভাবে পর্যালোচনা না করেই তা পাস করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। ফলে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের যে সাংবিধানিক প্রত্যাশা, তা অনেক ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হলে সংসদ সদস্যদের গবেষণাভিত্তিক রাজনীতি চর্চা করতে হবে। বাজেট, ব্যাংকিং খাত, করনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও দক্ষতা থাকতে হবে। শুধু এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন বা বরাদ্দ আদায়ের মধ্যেই একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গবেষণা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে, যাতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা ও পর্যালোচনা সম্ভব হয়।

এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি শক্তিশালী সংসদ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। আর একটি শক্তিশালী সংসদের জন্য প্রয়োজন জ্ঞানসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি, যারা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করবেন এবং কার্যকর আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেবেন।

তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মনোনয়ন প্রদানের আহ্বান জানান এবং জাতীয় সংসদকে প্রকৃত অর্থে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার

অধিকাংশ সংসদ সদস্যের চিন্তা এলাকার রাস্তাঘাট-কালভার্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

আপলোড সময় ১২:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের অধিকাংশ সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চিন্তা এখনো নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে তাদের বড় একটি অংশ এসব মৌলিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখছেন।

এক বিবৃতিতে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের অনেক জনপ্রতিনিধির মধ্যে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত আগ্রহ, গবেষণা বা দক্ষতা দেখা যায় না।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যান দেশের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের জন্য। কিন্তু বাস্তবে আইন তৈরির অধিকাংশ কাজ আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয় এবং অনেক সংসদ সদস্য প্রস্তাবিত আইন গভীরভাবে পর্যালোচনা না করেই তা পাস করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। ফলে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের যে সাংবিধানিক প্রত্যাশা, তা অনেক ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হলে সংসদ সদস্যদের গবেষণাভিত্তিক রাজনীতি চর্চা করতে হবে। বাজেট, ব্যাংকিং খাত, করনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও দক্ষতা থাকতে হবে। শুধু এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন বা বরাদ্দ আদায়ের মধ্যেই একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গবেষণা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে, যাতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা ও পর্যালোচনা সম্ভব হয়।

এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি শক্তিশালী সংসদ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। আর একটি শক্তিশালী সংসদের জন্য প্রয়োজন জ্ঞানসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি, যারা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করবেন এবং কার্যকর আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেবেন।

তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মনোনয়ন প্রদানের আহ্বান জানান এবং জাতীয় সংসদকে প্রকৃত অর্থে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।