জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু জামায়াত-এনসিপি বা ১১ দলের নয়, এ দাবি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের। কেননা তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। সুতরাং এ বিষয়টি সংসদেই সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সংসদে সমাধানযোগ্য বিষয়কে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আগামীকাল শনিবার দুপুরে খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা রাজপথে নামতে চাই না। চাই সংসদেই সবকিছু সমাধান করতে। কিন্তু সরকার আমাদেরকে বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেমতো একতরফা হয় না।
সীমান্তে পুশইন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে সংসদে একজন এমপি নোটিশ দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় কোথা থেকে কি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ আমাদের ওপর দাদাগিরি করে আধিপত্যবাদের সেবাদাস বানাক সেটি আমরা চাই না। সব বিভাগের সমাবেশ শেষ হলে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখনতো আরো বেশি দেখছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার চরম বিপর্যয়, একচ্ছত্র দলীয়করণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ সার্বিক জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠের সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হবেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ জন্য শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ১১ দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ হর্ন থাকবে সার্কিট হাউজ ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। যাতে মানুষ সার্কিট হাউজে না গিয়েও নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনতে পারে। খুলনাসহ বিভাগের বাকি নয়টি জেলা থেকে আগত যানবাহনগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য সাংগঠনিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে আসরের নামাজের আগ পর্যন্ত সমাবেশের মূল কার্যক্রম চলবে। তবে এর আগেও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করবেন।
সমাবেশ বাস্তবায়নের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তৃতা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দিবেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
এছাড়া বক্তৃতা করবেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রেস ব্রিফিং শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ নগরীর স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন। পরে তারা সার্কিট হাউজ মাঠের নির্মাণাধীন সমাবেশের বিশাল মঞ্চ পরিদর্শন করেন।
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদে সমাধানযোগ্য বিষয়কে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে —মিয়া গোলাম পরওয়ার
-
খুলনা অফিস - আপডেট সময় ০৯:১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- ৫ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























