বাংলাদেশে জোরপূর্বক মানুষ পাঠানো বা তথাকথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটির মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক বিধান অনুসরণ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্যও অশনিসংকেত হতে পারে।
এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে মানুষকে ফেলে রাখা বা জোরপূর্বক অন্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সকল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য যাচাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা উচিত। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ কংগ্রেস সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজরদারি বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দলটি ভারতের সরকারের প্রতি অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ পুশইন কার্যক্রম বন্ধ করে পারস্পরিক সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক নীতিমালার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।
খবর বিজ্ঞপ্তি 
























