ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

বিদেশে কর্মী প্রেরণের চেয়ে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিদেশে কর্মী প্রেরণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও এটি কখনোই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না। একটি উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী চাকরির আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যেতে হয় এবং নানা ধরনের প্রতারণা, শোষণ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে বহু প্রবাসী কর্মীর পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, অনেক পরিবার ভেঙে যায় এবং সন্তানদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও সেবাখাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

তিনি মনে করেন, দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রথম দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই কঠোরভাবে টাকা পাচার রোধ করতে হবে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে ব্যবসা ও শিল্প খাতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও শিল্পবান্ধব অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা এবং সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাক্রম চালু করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাপ কমবে এবং সারাদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিবৃতির শেষে এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিদেশে কর্মী পাঠিয়ে সাময়িকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের মানুষ যেন নিজ দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থান পায়, সেটিই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।”

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার

বিদেশে কর্মী প্রেরণের চেয়ে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম

আপলোড সময় ০১:০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিদেশে কর্মী প্রেরণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও এটি কখনোই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না। একটি উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী চাকরির আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যেতে হয় এবং নানা ধরনের প্রতারণা, শোষণ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে বহু প্রবাসী কর্মীর পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, অনেক পরিবার ভেঙে যায় এবং সন্তানদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও সেবাখাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

তিনি মনে করেন, দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রথম দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই কঠোরভাবে টাকা পাচার রোধ করতে হবে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে ব্যবসা ও শিল্প খাতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও শিল্পবান্ধব অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা এবং সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাক্রম চালু করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাপ কমবে এবং সারাদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিবৃতির শেষে এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিদেশে কর্মী পাঠিয়ে সাময়িকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের মানুষ যেন নিজ দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থান পায়, সেটিই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।”