ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইজন গ্রেফতার উত্তরখানে লাগামহীন বিদ্যুতের তার চুরি তালায় গৃহবধূকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষন : নারী সহ ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা নিজের দেওয়া ভোটের একটি অংশ মেনে অন্য অংশ অস্বীকার করা যায় না- মিয়া গোলাম পরওয়ার মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি ঠাকুরগাঁও এল জি ই ডির দুর্নীতি ঢাকতে নারী টিকটকার ব্যবহার রূপগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র মুয়াজ ‘হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের জন্য সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ দায়ী: গোলাম পরওয়ার সচিবালয়ের মতো জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই: আযাদ

কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ 

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ০৬:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • 56

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) প্রত্যাহার করা (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়। তাকে ২১ জুনের মধ্যে ঢাকা হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করার কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ঐ সমাবেশে স্থানীয়রা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে জানায়, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে ৮৯ জন খুন হয়েছে। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না। এজন্য ঐ এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।

 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়ে না।

ঐ ব্যক্তি জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন, তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়। আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’

অপরদিকে এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে। অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভাবিষ্যতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় হয়। বিবৃতিতে বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানানো হয়।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইজন গ্রেফতার

কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ 

আপলোড সময় ০৬:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) প্রত্যাহার করা (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়। তাকে ২১ জুনের মধ্যে ঢাকা হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করার কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ঐ সমাবেশে স্থানীয়রা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে জানায়, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে ৮৯ জন খুন হয়েছে। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না। এজন্য ঐ এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।

 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়ে না।

ঐ ব্যক্তি জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন, তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়। আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’

অপরদিকে এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে। অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভাবিষ্যতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় হয়। বিবৃতিতে বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানানো হয়।