ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে হিন্দু যুবকের সাথে নিখোঁজ মুসলিম কলেজছাত্রী পাইকগাছায় দলিত যুব সদস্যদের বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় স্মারকলিপি জমাদান বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত কেশবপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত  নেত্রকোনায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই-নির্বাচন কমিশনার ঠাকুরগাঁওয়ে বসতবাড়িতে পুলিশের অভিযান, ইয়াবা-হেরোইন ও নগদ টাকা উদ্ধার খুলনায় ইমাদ পরিবহনের ধাক্কায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত সুন্দরবনের জলদস্যু সম্রাট বাহিনীর কবল থেকে ৪ জেলে উদ্ধার

অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামান

২০০৮ সালের দুদকের মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা, হাইকোর্টের আদেশ ও তিন দফা পদোন্নতির নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান

পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামান। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি পুরোনো মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তথ্য, আদালতের আদেশ এবং প্রশাসনিক নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফরহাদুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আলোচিত দুদকের মামলাটি ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ট্রান্সফোর্সের মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাঁর দাবি, মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দেয় বলেও জানান তিনি।

তবে মামলার সুনির্দিষ্ট নম্বর, হাইকোর্টের আদেশের তারিখ ও আদেশের প্রকৃত ভাষা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে পদোন্নতিসংক্রান্ত সরকারি আদেশ পর্যালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

সরকারি বিধি অনুসরণ করে তিন দফা পদোন্নতি

বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফরহাদুজ্জামান জানান, চাকরিজীবনে পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে তিন দফা পদোন্নতি দিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব পদোন্নতি যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই পুরোনো অভিযোগের পুনরুল্লেখের ক্ষেত্রে মামলার বর্তমান অবস্থা, আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধিবিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে পদোন্নতি দিয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হোক। আমি চাই, যাচাইযোগ্য তথ্য ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হোক।”

পুরোনো মামলা নিয়ে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

ফরহাদুজ্জামানের ভাষ্য, ২০০৮ সালের মামলার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা না করে শুধু পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে তাঁকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তিনি মনে করেন, মামলার প্রেক্ষাপট, আদালতের আদেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মামলার নথি, হাইকোর্টের আদেশ এবং পদোন্নতিসংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশ যাচাই করলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগেও নথি যাচাই জরুরি

ফরহাদুজ্জামানের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ, পূর্বাচলে প্লট, নয়াপল্টনে ফ্ল্যাট এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জমি থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব তথ্য প্রচারিত হয়েছে, সেগুলোর যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তাঁর দাবি, সম্পদ নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। পারিবারিকভাবে পাওয়া সম্পদই তাঁর সম্পদের মূল ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সম্পদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল, সম্পদ বিবরণী, মালিকানার তথ্য এবং অর্থের উৎসসংক্রান্ত নথি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক পাল্টা তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো অভিযোগগুলো আবার আলোচনায় আসায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফরহাদুজ্জামান বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনারা আমার অফিসে আসুন, সঠিক তথ্য জানুন, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করুন এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন। আমি চাই, সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশিত হোক। মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে একজন কর্মকর্তার চরিত্রহনন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান যেমন জরুরি, তেমনি তাঁর বক্তব্য, পেশাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক নথি এবং আদালতের আদেশও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান বা একপক্ষীয় বক্তব্যের পরিবর্তে প্রমাণ ও নথিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামানকে ঘিরে পুরোনো মামলা, পদোন্নতি ও সম্পদসংক্রান্ত আলোচনায় প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি একজন কর্মকর্তার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামান

অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামান

আপলোড সময় ০৯:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২০০৮ সালের দুদকের মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা, হাইকোর্টের আদেশ ও তিন দফা পদোন্নতির নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান

পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামান। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি পুরোনো মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তথ্য, আদালতের আদেশ এবং প্রশাসনিক নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফরহাদুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আলোচিত দুদকের মামলাটি ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ট্রান্সফোর্সের মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাঁর দাবি, মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দেয় বলেও জানান তিনি।

তবে মামলার সুনির্দিষ্ট নম্বর, হাইকোর্টের আদেশের তারিখ ও আদেশের প্রকৃত ভাষা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে পদোন্নতিসংক্রান্ত সরকারি আদেশ পর্যালোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

সরকারি বিধি অনুসরণ করে তিন দফা পদোন্নতি

বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফরহাদুজ্জামান জানান, চাকরিজীবনে পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে তিন দফা পদোন্নতি দিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব পদোন্নতি যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই পুরোনো অভিযোগের পুনরুল্লেখের ক্ষেত্রে মামলার বর্তমান অবস্থা, আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধিবিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে পদোন্নতি দিয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হোক। আমি চাই, যাচাইযোগ্য তথ্য ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হোক।”

পুরোনো মামলা নিয়ে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

ফরহাদুজ্জামানের ভাষ্য, ২০০৮ সালের মামলার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা না করে শুধু পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে তাঁকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তিনি মনে করেন, মামলার প্রেক্ষাপট, আদালতের আদেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মামলার নথি, হাইকোর্টের আদেশ এবং পদোন্নতিসংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশ যাচাই করলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগেও নথি যাচাই জরুরি

ফরহাদুজ্জামানের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ, পূর্বাচলে প্লট, নয়াপল্টনে ফ্ল্যাট এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জমি থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব তথ্য প্রচারিত হয়েছে, সেগুলোর যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তাঁর দাবি, সম্পদ নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। পারিবারিকভাবে পাওয়া সম্পদই তাঁর সম্পদের মূল ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সম্পদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল, সম্পদ বিবরণী, মালিকানার তথ্য এবং অর্থের উৎসসংক্রান্ত নথি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক পাল্টা তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো অভিযোগগুলো আবার আলোচনায় আসায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফরহাদুজ্জামান বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনারা আমার অফিসে আসুন, সঠিক তথ্য জানুন, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করুন এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন। আমি চাই, সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশিত হোক। মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে একজন কর্মকর্তার চরিত্রহনন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান যেমন জরুরি, তেমনি তাঁর বক্তব্য, পেশাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক নথি এবং আদালতের আদেশও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান বা একপক্ষীয় বক্তব্যের পরিবর্তে প্রমাণ ও নথিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম ফরহাদুজ্জামানকে ঘিরে পুরোনো মামলা, পদোন্নতি ও সম্পদসংক্রান্ত আলোচনায় প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি একজন কর্মকর্তার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।