রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় এলাকায় রাত নামলেই বাড়তে থাকে আতঙ্ক । রাত ১১টার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই বিপদ, পড়তে হয় ছিনতাইকারী, ইয়াবাখোর, কিশোরগ্যাংয়ের কবলে । অনেকেই ঘর থেকে বের হতে চান না । বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিশোরগ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা, মোবাইল টাকাপয়সা ছিনতাই এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা বলে অভিযোগ উত্তরখান বাসীর ।
রাজাবাড়ি, আটিপাড়া, বড়বাগ, কুড়িপাড়া টেক, বৃহত্তর মাষ্টারপাড়া এলাকা,ভাটুলিয়া, মুন্ডা, পুলারটেক, চাঁনপাড়া, জিয়াবাগ, মৈনারটেক, মাউছাইদ,উজামপুর, তেরমুখ, চামুরখান, কাঁচকুড়া, বাওথার, বাতুরিয়া, বেতলী, হেলাল মার্কেট, নিন্নির টেক, বালুর মাঠ এলাকা, মাজার এলাকায় দিনরাত ইয়াবা ব্যবসা, রাতে বিদ্যুতের তার চুরির জমজমাট কারবার । এইসব এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় দলবেঁধে ঘোরাফেরা করে ইয়াবা ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও বিদ্যুতের তার চুরির লোকেরা—এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের । অনেক ক্ষেত্রে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পথচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে ছুরি, চাপাতি বা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।
সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের বিষয় হয়ে উঠেছে রাতে বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা । এমনকি দিন রাত-নেই চোরেরা বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে দা, বটি, জগ, প্লাস্টিক, রড, জুতা, মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে । আবার রাতে নির্জন জায়গায় মোবাইল ফোন বা টাকা ছিনিয়ে নিতে বাধা দিলেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে । অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয় । এসব ঘটনায় আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে ।
রাত করে কর্মস্থল থেকে ফেরা চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, ডেলিভারি কর্মী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন । অনেকে জানান, নির্জন সড়ক এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে বাসায় ফিরতে হয় । প্রয়োজন না হলে রাতের পর বাইরে বের হওয়াই এড়িয়ে চলেন অনেক পরিবার ।
এলাকার বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, অলিগলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা এবং নিয়মিত টহল চোখে না পড়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ । ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কও বাড়ছে ।
এরই মধ্যে বিশেষ করে বিদ্যুতের তার চুরির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি, কিশোরগ্যাংয়ের, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ধারালো অস্ত্র বহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকার সাধারণ নাগরিকরা ।
আহমেদ রুহুল 





















