সাতক্ষীরার তালায় পৃথক দুটি সড়ক দূর্ঘটনায় নারী সহ ২জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তালার শাকদহ এবং দুপুরে জাতপুর গ্রামে দূর্ঘটনা দু’টি ঘটে।
জানাগেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার শাকদা ব্রিজ এলাকায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণ পদ দাসের ছেলে। আনন্দ দাস এদিন সকালে শাকদা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়ক পার হবার সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১২-৪৪৬২) তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে পাশে বিলের পানিতে ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দূর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। ঘটনার পরপরই পরিবহনের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। অপরদিকে একই দিন দুপুরে তালার জাতপুর গ্রামে পারুল দাশ (৬৫) নামের এক নারী মটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন। তিনি পার্শ্ববর্তী ডুুমরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের হরি দাশের স্ত্রী। নিহতের বৌদি সরস্বতী দাশ জানান, তার ননদ বাড়ি থেকে এদিনে কবিরাজের চিকিৎসা নেবার জন্য তালার পাঁচরোখি গ্রামে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জাতপুর সমকাল স্কুল মোড় পার হবার পর একটি মটরসাইকেল পারুল দাশকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত গতীতে চলে যায়। এঘটনায় তিনি পড়ে যেয়ে গুরুতর আহত হলে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই পারুল দাশ মারা যায়। দূর্ঘটনায় পৃথক দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠের অগ্রগতি ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার প্রভাস কুমার দাস।
অভিভাবক সমাবেশে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী জাহিদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এমএ হাকিম, অভিভাবক সদস্য গাজী আছাদুজ্জামান, অধ্যক্ষ মো. সাইফুল্লাহ, সাংবাদিক বি.এম জুলফিকার রায়হান, মো. কামাল হোসেন, শারমিন খাতুন, ইকরামুল ইসলাম, সুশান্ত হালদার, লতা দাশ, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রেশমা খাতুন, সহকারী শিক্ষক পূর্নিমা রানী নাথ, গোবিন্দ ঘোষ, তন্ময় কুমার গাইন, নন্দ কিশোর মন্ডল ও বাপ্পা কুমার সেন প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্লাসে ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের সমন্বয় করে লেখাপড়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকদের যেমন শতভাগ পাঠদানে মনোযোগী হতে হবে তেমনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করতে হবে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
তালায় কন্যা শিশুর বাল্য বিবাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চাঁদকাঠি গ্রামে ১৪ বছর বয়সি এক শিশুর বাল্য বিবাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ মেয়ের পিতা-মাতার মুচলেকা গ্রহন করেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার জানান, চাঁদকাঠি গ্রামের এক শিশুর (১৪) সাথে কেশবপুর উপজেলার কেদারপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শান্ত ইসলাম (২৩) এর বিয়ে ঠিক হয়। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) কন্যা শিশুর বাল্য বিয়ের সংবাদ পেয়ে চাঁদকাঠি গ্রামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাব’র কর্মীরাসহ নেটস বাংলাদেশের সহযোগীতায় পরিচালিত রিইব’র হোপ প্রকল্পের সিএসও সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিশু মেয়েটির বাল্য বিবাহ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা- বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৮ ধারা মোতাবেক শিশুটি প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একইসাথে শিশু মেয়েটির লেখাপড়া চালিয়ে নিতে অভিভাবকদের পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিয়ের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে বলে সতর্ক করেন। এসময় শিশু মেয়ের পিতা-মাতা তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াসহ শিশু মেয়ের বাল্য বিবাহ দিবেনা মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন।
জুলফিকার রায়হান, তালা থেকে 























