ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুলের খুঁটির জোর কোথায়? খুলনায় ‘হিন্দি দিবস সর্ব হিন্দি  পখওয়াড়া-২০২৬’ দিবস পালিত এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম কালুরঘাট অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, বেহাল সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা চুয়াডাঙ্গার উপশম নার্সিং হোমে চিকিৎসকের ভুলে স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ সাতক্ষীরা নারী ও শিশু আদালতে পেশকার শামীমের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ  জুমার দিন: ফজিলত ও বিশেষ আমলে সমৃদ্ধ সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন : জাতীয় জনতা পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠন তালায় নকল সার ও কীটনাশক কারখানায় র‌্যাবের অভিযান : বিপুল নকল ওষুদ ও মালামাল জব্দ রূপগঞ্জে প্রতিবন্ধীর ভূমি জালিয়াতির ঘটনায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুলের খুঁটির জোর কোথায়?

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে ২০২৩ সালের ফ্রেরুয়ারী মাসে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম, দূনীতি, অফিসের অর্থ আত্মসাৎসহ নিজের মর্জিমত অফিস করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। যে কারণে সেবা প্রার্থী সর্বসাধারণের প্রশ্ন কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাসছুলের খুঁটির জোর কোথায়? সাংবাদিকরা তথ্য আইনে তথ্য চাইলে হয়রানিসহ প্রভাবশালীকর্তৃক সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া যেন তার নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। ১১ টায় অফিসে এসে ১ টায় চলে যাওয়া তার পুরাতন অভাস। নিজের অপরাধ লুকাতে ব্যবহার করেন উপজেলা পরিষদের রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন গোপন পকেট গেট। অধিকাংশ অফিসের দিনে নিজ বাসা ঝিনাইদহ শহরের মর্ডাণ মোড়ে আড্ডা দেয়ার অভিযোগ আছে। অফিসে খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয় তিনি জেলা অফিসে কাজে আছেন। জেলা যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক বিলকিস আফরোজ এর ভাষ্য তিনি মাসিক মিটিং ছাড়া কোন দিনও জেলা অফিসে আসেন না। বেশির ভাগ সময় তার চেয়ার থাকে ফাঁকা, এতে করে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। এছাড়া অফিসের মটর সাইকেল নিজ বাড়িতে রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিভিন্ন সভা সেমিনার ও প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ, অফিসে ঝাড়ুদারের বেতন মেরে খাওয়াসহ অফিসের বাজেট বরাদ্দের লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটস্থ করার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণ বরাদ্দ আসলেই তা বার বার দেয়া হয় তালসার মাতৃছায়া ফাউন্ডেশন নামে একটি ভুঁইফোর প্রতিষ্ঠানকে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় অফিসের খরচ বাবদ প্রতি বছর দুই বার বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন যা তিনি নাম মাত্র খরচ করে সবই আত্মসাৎ করেন। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম দফা বরাদ্দের তালিকা যাচাই করে দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ ৩০ হাজার, পেট্রোল ও মোটরযান বাবদ ৮ হাজার ৫শত, আসবাবপত্র বাবদ ৪৭ হাজার, কম্পিউটার বাবদ ১৫ হাজার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বাবদ ৬ হাজার, অফিস সরঞ্জাম বাবদ ৬ হাজার টাকা খরচ না করেই ভুয়া বিল ভাউচারে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসবখাতে প্রতি বছর প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকেই ৪ বছর যাবত আত্মসাৎ করে আসছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবছর এসবখাতে লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে তার অফিসের সরঞ্জাম যাচাই কালে দেখা যায় বহু বছরের পুরাতন চেয়ার, টেবিল, জং ধরা ইষ্টিলের আলমারী , ফাইল কেবিনেটসহ অতি পুরাতন ও নোংরা আসবাব দিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম। এসব বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি নিজ বাসা ঝিনাইদহে মটরসাইকেল রাখার বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তা অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসাইন এর সাথে, তিনি জানান যুব উন্নয়ন কর্তকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। তাকে বলা হয়েছে আগে যা করেছেন আমার সময়ে কোন অনিয়ম দূনীতি করলে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক বিলকিস আফরোজ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুলের খুঁটির জোর কোথায়?

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুলের খুঁটির জোর কোথায়?

আপলোড সময় ১০:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে ২০২৩ সালের ফ্রেরুয়ারী মাসে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম, দূনীতি, অফিসের অর্থ আত্মসাৎসহ নিজের মর্জিমত অফিস করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। যে কারণে সেবা প্রার্থী সর্বসাধারণের প্রশ্ন কোটচাঁদপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাসছুলের খুঁটির জোর কোথায়? সাংবাদিকরা তথ্য আইনে তথ্য চাইলে হয়রানিসহ প্রভাবশালীকর্তৃক সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া যেন তার নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। ১১ টায় অফিসে এসে ১ টায় চলে যাওয়া তার পুরাতন অভাস। নিজের অপরাধ লুকাতে ব্যবহার করেন উপজেলা পরিষদের রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন গোপন পকেট গেট। অধিকাংশ অফিসের দিনে নিজ বাসা ঝিনাইদহ শহরের মর্ডাণ মোড়ে আড্ডা দেয়ার অভিযোগ আছে। অফিসে খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয় তিনি জেলা অফিসে কাজে আছেন। জেলা যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক বিলকিস আফরোজ এর ভাষ্য তিনি মাসিক মিটিং ছাড়া কোন দিনও জেলা অফিসে আসেন না। বেশির ভাগ সময় তার চেয়ার থাকে ফাঁকা, এতে করে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। এছাড়া অফিসের মটর সাইকেল নিজ বাড়িতে রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিভিন্ন সভা সেমিনার ও প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ, অফিসে ঝাড়ুদারের বেতন মেরে খাওয়াসহ অফিসের বাজেট বরাদ্দের লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটস্থ করার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণ বরাদ্দ আসলেই তা বার বার দেয়া হয় তালসার মাতৃছায়া ফাউন্ডেশন নামে একটি ভুঁইফোর প্রতিষ্ঠানকে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় অফিসের খরচ বাবদ প্রতি বছর দুই বার বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন যা তিনি নাম মাত্র খরচ করে সবই আত্মসাৎ করেন। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম দফা বরাদ্দের তালিকা যাচাই করে দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ ৩০ হাজার, পেট্রোল ও মোটরযান বাবদ ৮ হাজার ৫শত, আসবাবপত্র বাবদ ৪৭ হাজার, কম্পিউটার বাবদ ১৫ হাজার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বাবদ ৬ হাজার, অফিস সরঞ্জাম বাবদ ৬ হাজার টাকা খরচ না করেই ভুয়া বিল ভাউচারে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসবখাতে প্রতি বছর প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকেই ৪ বছর যাবত আত্মসাৎ করে আসছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবছর এসবখাতে লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে তার অফিসের সরঞ্জাম যাচাই কালে দেখা যায় বহু বছরের পুরাতন চেয়ার, টেবিল, জং ধরা ইষ্টিলের আলমারী , ফাইল কেবিনেটসহ অতি পুরাতন ও নোংরা আসবাব দিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম। এসব বিষয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি নিজ বাসা ঝিনাইদহে মটরসাইকেল রাখার বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তা অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসাইন এর সাথে, তিনি জানান যুব উন্নয়ন কর্তকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। তাকে বলা হয়েছে আগে যা করেছেন আমার সময়ে কোন অনিয়ম দূনীতি করলে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক বিলকিস আফরোজ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।