সাতক্ষীরা আদালতের পেশকার শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ। পেশকারের ঘুষ বাণিজ্যে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সংবেদনশীল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (বেঞ্চ সহকারী) পেশকার শামীম আহমেদ এবং কর্মচারীদের একাংশের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী ও আইনজীবীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার নথিপত্র সচল রাখা থেকে শুরু করে আদালতের প্রায় প্রতিটি ধাপেই অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক অলিখিত নিয়ম তৈরি হয়েছে।
পেশকার শামীম আহমেদের ব্যাপক ঘুষ-বাণিজ্য, দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা জজকোর্টের এ্যাড: নজরুল ইসলাম (জীবন) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চেয়ারম্যান জেলা লিগ্যাল এইড সাতক্ষীরা বরাবর ১৭-৯-২৬ ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ্যাড: নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করে আসছেন।
সাতক্ষীরা নাঃ শিঃ নিঃ ট্রাইঃ পরিচালধীন নারী ও শিশু ২০৯/২১ নং মামলা ১৬/০৬/২৫ ইং তারিখ নিষ্পত্তিতে গত ০১/০৯/২৬ ইং তারিখে ১৬০০ টাকা বিলের জন্য পেশকার শামীম আহমেদের নিকট বিল সাবমিট করে। পরবর্তীতে পেশকার জানায় আপনার বিলের নথি পাওয়া যাচ্ছে না, বাবলুকে দিয়ে নথি তলব করেন। বাবলু নথি তলবে ২০০ টাকা দাবি করলে এ্যাড: নজরুল বলেন, বিল উত্তোলন করে দেব এবং পেশকার শামীম আহমেদ ৫০০ ঘুষ দাবি করলে, তিনি বলেন বিলের নথি পাঠিয়ে দিন টাকা দেব। ১৬০০ টাকা বিল পাশের ৭০০ টাকা ঘুষ দাবি। নগদে না দেওয়ায় ১৫ দিন ঘোরাঘুরির পর পেশকারের কাছে ফোন দিলে বলে আপনার সহকারীকে পাঠাবেন।
পরেরদিন সকালে সহকারী সেলিম কে পাঠালে পেশকার শামীম বলেন বিকালে যেতে। এভাবে পুনরায় ১০ দিন ১০ বার পেশকারের নিকটে যান এবং বিলের অবস্থা জানতে চাইলে পেশকার শামীম বলে নথিপত্রে আপনার নিয়োগপত্র এবং কি কাজ করেছেন দেখাতে। এ্যাড: নজরুল সবকিছু বাহির করে পেশকারকে দেখালেন। পেশকার শামীম বলেন আজ স্যারের সহি করাব বলে এ্যাড: নজরুল কে বিকেলে যেতে বলেন।
পরেরদিন গেলে বিভিন্ন কাগজপত্র ফটোকপি করতে বলেন। তিনি সহকারীকে দিয়ে ফটোকপি করে পেশকারের কাছে দেন। এভাবেই একেরপর এক হয়রানির শিকার হয় এ্যাড: নজরুল। তিনি বলেন পেশকার শামীম আহমেদ একজন ঘুষখোর কর্মকর্তা। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে অনেক ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন আমার লিগ্যাল এইডের বিলের প্রয়োজন নেই, তবে ঘুষ না দেওয়ায় আমি হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি এই দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর শামীম আহমেদকে তদন্ত পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছি। তবে এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে পেশকার শামীম আহমেদ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বে তালা ও কলারোয়া সহকারী জজ আদালতে পেশকার শামীম আহমেদ দায়িত্বে থাকাকালে মামলার নথি গায়েব ও উপস্থাপনে কারচুপি, টাকার বিনিময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা সাক্ষীদের তালিকা আটকে রাখা কিংবা শুনানির দিন বিচারকের সামনে ফাইল উপস্থাপন না করার মতো অনেক ঘটনা ঘটেছে।
পেশকারকে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে বাধ্য করা সাক্ষী হাজিরায় অনিয়ম: আদালতে সাক্ষী উপস্থিত থাকার পরও সময়ক্ষেপণ করা বা টাকা না দিলে ধার্য দিন আগে পিছে করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তালা ও কলারোয়া সহকারী জজ (দেওয়ানী আদালতে) থাকাকালীন সিভিল মামলা ফাইল করতে পেশকার শামীমকে দিতে হয়েছে ৩০০-৫০০ টাকা। পক্ষভুক্ত দরখাস্তে দিতে
৩০০-৫০০ টাকা, নিষেধাজ্ঞা দরখাস্ত ১০০০-১৫০০ টাকা, একটি নথি দেখতেও ২০০-৩০০ টাকা, মামলার ধার্য দিন নিতে ২০০-৩০০ টাকা, ধার্যদিন আগে-পিছি করিয়ে নিতে ৫০০ -১০০০ টাকা, মামলার ফ্রেস আরজি দাখিলে ৫০০-১০০০ টাকা, মামলার কোনো কাগজপত্র ফটোকপি করতে ২০০-৩০০ টাকা দিতে হয়েছে।
এদিকে জজ কোর্ট এই পেশকারের তারিখ বাণিজ্যের ব্যাপারে একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, পেশকারদের নানা রকম কৌশল রয়েছে। কিভাবে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যায় তা তারা ভালো বোঝেন। মামলার নথি গায়েব, ধার্য তারিখ পরিবর্তনে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা একাধিক আইনজীবী বলেছেন, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। পেশকারের বিরুদ্ধে দরখাস্ত দিলেও কিছুই হবেনা, বরং সমস্যাটা আরো জটিল হবে।
আজ পর্যন্ত কোনো অনিয়মের সঠিক তদন্ত হয়েছে কিনা তাদের জানা নেই।
সাতক্ষীরা অফিস 






















