সাভারে ওএমএসের চাল-আটা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও কালোবাজারির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ৪ সাংবাদিককে হেনস্তা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় চলছে সাংবাদিক সমাজে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে থানা পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত:
আমাদের হাতে আসা কাগজপত্র, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ ও *সময়ের চিত্র (somoyerchitra.com)* সহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টায় সাভারের চাপাইন মেম্বারের মোড়ে ওএমএস ডিলার জাহাঙ্গীরের দোকানে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যান দৈনিক বিজনেস ফাইলের এফ রহমান রূপক, দৈনিক মুক্ত খবরের মোঃ আবুবকর সিদ্দিক ও মনজুরুল হক মঞ্জু এবং দৈনিক একুশে সংবাদের মোঃ পিন্টু শেখ।
সেখানে ৩৩ বস্তা চালের মধ্যে মাত্র ৫ বস্তা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তারা মাল পান না, ২৮ বস্তা আধা ঘণ্টায় বিক্রি দেখানো হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই ডিলারের লোকজন পরিচয়ে ৫-৭ জন যুবক এসে সাংবাদিকদের ভিজিটিং কার্ড কেড়ে নেয়, হুমকি দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়।
এসআই আব্বাসের কৌশলে থানায় নিয়ে জেলে প্রেরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় সাভার মডেল থানার এসআই আব্বাস পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিরাপত্তার কথা বলে কৌশলে বলেন “থানায় চলেন, মীমাংসা করে দেব”। এই কথা বলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে থাকা কালোবাজারির ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ দেখতে রাজি হননি তিনি। উল্টো ডিলার জাহাঙ্গীরের করা সাজানো অভিযোগে – ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলায় তিন সাংবাদিককে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
বর্তমান ওসি সাইফুল আলম কে?
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হলেন পুলিশ পরিদর্শক *মোঃ সাইফুল আলম*। তিনি ২০২৬ সালের ৩০শে জুলাই এই থানায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
– *পূর্ববর্তী কর্মস্থল:* সাভারে আসার আগে তিনি ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
– *নিজ জেলা:* তাঁর নিজ বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়।
– *অর্জন:* আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন, একজন শ্রেষ্ঠ ওসি থাকা অবস্থায় তার থানার একজন এসআই কিভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের কৌশলে থানায় নিয়ে জেলে পাঠান এবং ওএমএসের মতো স্পর্শকাতর সরকারি খাদ্য কর্মসূচির অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ডিলারের পক্ষ নেন?
ঊর্ধ্বতন মহলে ৫ দফা দাবি:
এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা খাদ্যমন্ত্রী, আইজিপি ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ৫ দফা দাবিতে লিখিত আবেদন করেছেন। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, “সরকারি চাল-আটা নিয়ে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। তাকে চাঁদাবাজ বানিয়ে জেলে পাঠানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা।”
এ বিষয়ে ওসি সাইফুল আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আনিসুর রহমান মোল্লা 





















