ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম কালুরঘাট অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, বেহাল সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা চুয়াডাঙ্গার উপশম নার্সিং হোমে চিকিৎসকের ভুলে স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ সাতক্ষীরা নারী ও শিশু আদালতে পেশকার শামীমের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ  জুমার দিন: ফজিলত ও বিশেষ আমলে সমৃদ্ধ সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন : জাতীয় জনতা পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠন তালায় নকল সার ও কীটনাশক কারখানায় র‌্যাবের অভিযান : বিপুল নকল ওষুদ ও মালামাল জব্দ রূপগঞ্জে প্রতিবন্ধীর ভূমি জালিয়াতির ঘটনায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার অপপ্রচার ও মানহানী করায় ৪ জনকে আসামী করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলো মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান ভূঁইয়া প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও বিসিপিএস কাউন্সিলর পদে কে এই ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর সরকার মনোনীত কাউন্সিলর হিসেবে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম প্রকাশের পর চিকিৎসক সমাজের একটি অংশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের কয়েকজন চিকিৎসক দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন লাভ করলেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক সমাজের একাংশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


অন্যদিকে, ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও পেশাগত অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয় বলেও তারা মনে করেন।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিপিএসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

আওয়ামী লীগের নেত্রী ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকা

অভিযোগ উঠেছে গত ১৭টি বছর আওয়ামী লীগের সাথে নিবিড় সখ্যতা বজায় রেখে দাপিয়ে বেড়ানো ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম যখন ‘সরকার মনোনীত বিসিপিএস কাউন্সিলর’ তালিকায় অথবা সরকারী কোঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে সদস্য হিসেবে দেখা যায়, তখন সচেতন চিকিৎসকদের চোখ ছানাবড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক!

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন তিনি; সাধারণ চিকিৎসক থেকে শুরু করে অনেকেই তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ১৫ই আগস্টের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর কান্নার রোল আর সবাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ বুকে লালন করার নসিহত দেওয়ার দৃশ্য কারও ভোলার কথা নয়।

অথচ কী অদ্ভুত অদৃশ্য ক্ষমতার মায়াজাল! ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এই ভদ্রমহিলাকে পালাতে হয়নি। উল্টো নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে আবারো নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিসিপিএস (BCPS) এর কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়ে গেছেন!

চিকিৎসক সমাজ আজ আতঙ্কিত ও বিস্মিত—এমন সব ডিগবাজি দেওয়া সুযোগ সন্ধানীদের হাত ধরেই কি তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ও ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে?

 

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও বিসিপিএস কাউন্সিলর পদে কে এই ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকা?

আপলোড সময় ১১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর সরকার মনোনীত কাউন্সিলর হিসেবে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম প্রকাশের পর চিকিৎসক সমাজের একটি অংশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের কয়েকজন চিকিৎসক দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন লাভ করলেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক সমাজের একাংশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


অন্যদিকে, ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও পেশাগত অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয় বলেও তারা মনে করেন।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিপিএসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

আওয়ামী লীগের নেত্রী ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকা

অভিযোগ উঠেছে গত ১৭টি বছর আওয়ামী লীগের সাথে নিবিড় সখ্যতা বজায় রেখে দাপিয়ে বেড়ানো ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম যখন ‘সরকার মনোনীত বিসিপিএস কাউন্সিলর’ তালিকায় অথবা সরকারী কোঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে সদস্য হিসেবে দেখা যায়, তখন সচেতন চিকিৎসকদের চোখ ছানাবড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক!

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন তিনি; সাধারণ চিকিৎসক থেকে শুরু করে অনেকেই তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ১৫ই আগস্টের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর কান্নার রোল আর সবাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ বুকে লালন করার নসিহত দেওয়ার দৃশ্য কারও ভোলার কথা নয়।

অথচ কী অদ্ভুত অদৃশ্য ক্ষমতার মায়াজাল! ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এই ভদ্রমহিলাকে পালাতে হয়নি। উল্টো নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে আবারো নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিসিপিএস (BCPS) এর কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়ে গেছেন!

চিকিৎসক সমাজ আজ আতঙ্কিত ও বিস্মিত—এমন সব ডিগবাজি দেওয়া সুযোগ সন্ধানীদের হাত ধরেই কি তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ও ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে?