ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড়  মিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ আশিক বাহিনীর ক্যাডার শিবলী গ্রেফতার অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাচ্ছেন ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদ নেই, সেটি কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি চোরাচালান ও দুর্নীতি: কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগে বেনাপোলে কাস্টমস কর্মকর্তা ও আনসার সদস্য আটক নারায়ণগঞ্জে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে মাওলানা আব্দুল হালিম এম পি ঘুষের পারমিট আর রাতের রুট: দুই ফাঁদে সুন্দরবন দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেই আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও বিসিপিএস কাউন্সিলর পদে কে এই ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর সরকার মনোনীত কাউন্সিলর হিসেবে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম প্রকাশের পর চিকিৎসক সমাজের একটি অংশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের কয়েকজন চিকিৎসক দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন লাভ করলেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক সমাজের একাংশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


অন্যদিকে, ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও পেশাগত অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয় বলেও তারা মনে করেন।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিপিএসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

আওয়ামী লীগের নেত্রী ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকা

অভিযোগ উঠেছে গত ১৭টি বছর আওয়ামী লীগের সাথে নিবিড় সখ্যতা বজায় রেখে দাপিয়ে বেড়ানো ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম যখন ‘সরকার মনোনীত বিসিপিএস কাউন্সিলর’ তালিকায় অথবা সরকারী কোঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে সদস্য হিসেবে দেখা যায়, তখন সচেতন চিকিৎসকদের চোখ ছানাবড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক!

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন তিনি; সাধারণ চিকিৎসক থেকে শুরু করে অনেকেই তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ১৫ই আগস্টের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর কান্নার রোল আর সবাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ বুকে লালন করার নসিহত দেওয়ার দৃশ্য কারও ভোলার কথা নয়।

অথচ কী অদ্ভুত অদৃশ্য ক্ষমতার মায়াজাল! ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এই ভদ্রমহিলাকে পালাতে হয়নি। উল্টো নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে আবারো নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিসিপিএস (BCPS) এর কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়ে গেছেন!

চিকিৎসক সমাজ আজ আতঙ্কিত ও বিস্মিত—এমন সব ডিগবাজি দেওয়া সুযোগ সন্ধানীদের হাত ধরেই কি তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ও ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে?

 

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড় 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও বিসিপিএস কাউন্সিলর পদে কে এই ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকা?

আপলোড সময় ১১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর সরকার মনোনীত কাউন্সিলর হিসেবে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম প্রকাশের পর চিকিৎসক সমাজের একটি অংশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের কয়েকজন চিকিৎসক দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন লাভ করলেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক সমাজের একাংশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


অন্যদিকে, ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও পেশাগত অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয় বলেও তারা মনে করেন।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিপিএসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডা. সেহেরীন এফ সিদ্দিকার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

আওয়ামী লীগের নেত্রী ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকা

অভিযোগ উঠেছে গত ১৭টি বছর আওয়ামী লীগের সাথে নিবিড় সখ্যতা বজায় রেখে দাপিয়ে বেড়ানো ডাঃ সেহেরীন এফ সিদ্দিকার নাম যখন ‘সরকার মনোনীত বিসিপিএস কাউন্সিলর’ তালিকায় অথবা সরকারী কোঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে সদস্য হিসেবে দেখা যায়, তখন সচেতন চিকিৎসকদের চোখ ছানাবড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক!

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন তিনি; সাধারণ চিকিৎসক থেকে শুরু করে অনেকেই তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ১৫ই আগস্টের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর কান্নার রোল আর সবাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ বুকে লালন করার নসিহত দেওয়ার দৃশ্য কারও ভোলার কথা নয়।

অথচ কী অদ্ভুত অদৃশ্য ক্ষমতার মায়াজাল! ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এই ভদ্রমহিলাকে পালাতে হয়নি। উল্টো নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে আবারো নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিসিপিএস (BCPS) এর কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়ে গেছেন!

চিকিৎসক সমাজ আজ আতঙ্কিত ও বিস্মিত—এমন সব ডিগবাজি দেওয়া সুযোগ সন্ধানীদের হাত ধরেই কি তবে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ও ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে?