ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল ও সমাবেশ রূপগঞ্জে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, গ্রেপ্তার এক ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম নারায়ণগঞ্জে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, ১জন জামায়াত রোকন সহ আহত ৩ খুলনায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত ‘দ্রোহের আগস্ট” পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের প্রতিবাদসভা ও গণস্বাক্ষর   রূপগঞ্জে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত ইসলামী আলোচনা সভা ও মিছিল খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির উপকরণ সহ এক ব্যক্তির কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড

ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

পুরনো সড়কের ইট-বালুতে নতুন সড়ক নির্মাণে অভিযোগ এলজিইডির বিরুদ্ধে

ঠাকুরগাঁওয়ে যেন চুরি হয়ে গেছে একটি আস্ত পাকা রাস্তা। নতুন সড়ক নির্মাণের নামে প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি পাকা সড়ক। সেই রাস্তার ইট, বালু ও কার্পেটিং তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন সড়ক নির্মাণে। অথচ এ বিষয়ে সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়নি কোনো ক্ষতিপূরণও।

এতেই শেষ নয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণেও সিডিউল না মেনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুর বদলে কাদামাটি, নির্ধারিত খোয়ার পরিবর্তে ভবনের রাবিশ ও ইটের গুঁড়া, আর এক নম্বর ইটের জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক নির্মাণ কাজে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইকপাড়া-কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দরপত্রে ১২ শতাংশ কম দর (লেস) দিয়ে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর ট্রেডার্স। পরে কাজটি আরও কম দরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুভান বিডিআর ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সাব-ঠিকাদারি হিসেবে হস্তান্তর করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকায় ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি পাকা সড়কের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাঙা রাস্তার ইট, বালু ও কার্পেটিংয়ের উপকরণ ভেকু ও ট্রাকে করে নতুন সড়ক নির্মাণস্থলে নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ রাস্তার মালামালের কোনো মূল্য সরকারি হিসাব থেকে সমন্বয় করা হয়নি কিংবা সুগার মিল কর্তৃপক্ষও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। দিনে-দুপুরেই চুরি হয়ে গেছে আস্ত একটি রাস্তা। অথচ এই বিষয়ে কিছুই জানে না ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, পায়নি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণও।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির বলেন, আমি আগে এই বিষয়ে কিছু জানতাম না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এলজিইডির ঠিকাদার সুগার মিলের রাস্তা ভেঙেছে। যদিও আমার কাছে কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমাদের রাস্তা যদি অন্য কেউ ভাঙতে চায়, তাহলে সর্বপ্রথম অফিশিয়াল নিয়মে অনুমতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমতি দিলেও সেই রাস্তার প্রতি টুকরো ইট পর্যন্ত আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে তারা মালামাল দেওয়া তো দূরের কথা, আমাদের জানানো প্রয়োজন মনে করেনি। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের চোখের সামনেই রাস্তা ভেঙে নিয়ে গেছে। যে রাস্তা আগে ছিল, সেটাই কেটে তুলে আবার নতুন রাস্তার কাজে ব্যবহার করছে। সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। শুধু পুরোনো রাস্তার উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগই নয়, নতুন সড়ক নির্মাণেও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাব-বেস ও বেস নির্মাণে মানসম্মত বালুর পরিবর্তে কাদামাটিযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ও ঝামা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত আকারের ইটের খোয়ার বদলে ভবন ভাঙার রাবিশ ও ইটের গুঁড়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির সড়ক নির্মাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে মাটির শোল্ডার রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চোখের সামনে এত বড় অনিয়ম হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। দুই দলের দুই প্রভাবশালী নেতা মিলে এই কাজ করায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। যোগাযোগের সুবিধার্থে নতুন রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে উল্টো সুগার মিলের পুরোনো চলাচলের রাস্তাটিও নষ্ট করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন প্রায় দিনে নির্মাণ কাজে পরিদর্শনে আসতেন। তাদের কয়েকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেন না। আমরা মনে করি তাদের যোগসাজসেই রাস্তার কাজে নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজে উপস্থিত সাব-ঠিকাদাররা প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফয়জুল রহমান বলেন, কাজটি সাব-ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তারা কীভাবে কাজ করছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনারাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যস্ততার কারণে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা কাজটি নিয়মিত তদারকি করতে পারেননি।

আর এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস বলেন, ছবি ও ভিডিও দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগ তদন্ত করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল ও সমাবেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

আপলোড সময় ০৬:০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

পুরনো সড়কের ইট-বালুতে নতুন সড়ক নির্মাণে অভিযোগ এলজিইডির বিরুদ্ধে

ঠাকুরগাঁওয়ে যেন চুরি হয়ে গেছে একটি আস্ত পাকা রাস্তা। নতুন সড়ক নির্মাণের নামে প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি পাকা সড়ক। সেই রাস্তার ইট, বালু ও কার্পেটিং তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন সড়ক নির্মাণে। অথচ এ বিষয়ে সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়নি কোনো ক্ষতিপূরণও।

এতেই শেষ নয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণেও সিডিউল না মেনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুর বদলে কাদামাটি, নির্ধারিত খোয়ার পরিবর্তে ভবনের রাবিশ ও ইটের গুঁড়া, আর এক নম্বর ইটের জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক নির্মাণ কাজে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইকপাড়া-কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দরপত্রে ১২ শতাংশ কম দর (লেস) দিয়ে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর ট্রেডার্স। পরে কাজটি আরও কম দরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুভান বিডিআর ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সাব-ঠিকাদারি হিসেবে হস্তান্তর করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকায় ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি পাকা সড়কের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাঙা রাস্তার ইট, বালু ও কার্পেটিংয়ের উপকরণ ভেকু ও ট্রাকে করে নতুন সড়ক নির্মাণস্থলে নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ রাস্তার মালামালের কোনো মূল্য সরকারি হিসাব থেকে সমন্বয় করা হয়নি কিংবা সুগার মিল কর্তৃপক্ষও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। দিনে-দুপুরেই চুরি হয়ে গেছে আস্ত একটি রাস্তা। অথচ এই বিষয়ে কিছুই জানে না ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, পায়নি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণও।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির বলেন, আমি আগে এই বিষয়ে কিছু জানতাম না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এলজিইডির ঠিকাদার সুগার মিলের রাস্তা ভেঙেছে। যদিও আমার কাছে কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমাদের রাস্তা যদি অন্য কেউ ভাঙতে চায়, তাহলে সর্বপ্রথম অফিশিয়াল নিয়মে অনুমতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমতি দিলেও সেই রাস্তার প্রতি টুকরো ইট পর্যন্ত আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে তারা মালামাল দেওয়া তো দূরের কথা, আমাদের জানানো প্রয়োজন মনে করেনি। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের চোখের সামনেই রাস্তা ভেঙে নিয়ে গেছে। যে রাস্তা আগে ছিল, সেটাই কেটে তুলে আবার নতুন রাস্তার কাজে ব্যবহার করছে। সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। শুধু পুরোনো রাস্তার উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগই নয়, নতুন সড়ক নির্মাণেও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাব-বেস ও বেস নির্মাণে মানসম্মত বালুর পরিবর্তে কাদামাটিযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ও ঝামা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত আকারের ইটের খোয়ার বদলে ভবন ভাঙার রাবিশ ও ইটের গুঁড়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির সড়ক নির্মাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে মাটির শোল্ডার রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চোখের সামনে এত বড় অনিয়ম হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। দুই দলের দুই প্রভাবশালী নেতা মিলে এই কাজ করায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। যোগাযোগের সুবিধার্থে নতুন রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে উল্টো সুগার মিলের পুরোনো চলাচলের রাস্তাটিও নষ্ট করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন প্রায় দিনে নির্মাণ কাজে পরিদর্শনে আসতেন। তাদের কয়েকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেন না। আমরা মনে করি তাদের যোগসাজসেই রাস্তার কাজে নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজে উপস্থিত সাব-ঠিকাদাররা প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফয়জুল রহমান বলেন, কাজটি সাব-ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তারা কীভাবে কাজ করছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনারাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যস্ততার কারণে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা কাজটি নিয়মিত তদারকি করতে পারেননি।

আর এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস বলেন, ছবি ও ভিডিও দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগ তদন্ত করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।