ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (পলাশবাড়ী) মিড ডে মিলের খাবার খাওয়ার পর ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মো. সজীব মিয়া।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড ডে মিলের খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবারের সঙ্গে ডিমও দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে আরও শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাদের বিদ্যালয় থেকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এরপর ৩০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাবারের মান, রান্না, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আরেকটি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর একই উপজেলায় আবারও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল কর্মসূচির খাবারের মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ঠিক কোন খাবার খেয়ে বা কী কারণে অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিমসহ পরিবেশন করা খাবারের নমুনা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মো. সজীব মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যও নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে দ্রুত তদন্ত এবং খাবারের মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশন করা খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 























