ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পাটকেলঘাটা বাজারে মাংসের খাটিয়া অরক্ষিত রাখার অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিসি ফুডের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াল থাবা: দুদকের মামলায় জর্জরিত মোহাম্মদ তানভীর হোসেন

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগের পাহাড় জমেছে। স্থানীয় ডিলার, মিলার, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগে অভিযোগে তিনি দুর্নীতির ‘ভয়াল থাবায়’ পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একাধিক মামলায় জর্জরিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনরোষ চরমে পৌঁছেছে।
খুলনা খাদ্য বিভাগকে নাকি তিনি ‘ঘুষের আখড়ায়’ পরিণত করেছেন। ওএমএস ডিলারশিপ বাণিজ্য, গুদাম বরাদ্দ, কর্মচারী নিয়োগ, মিলারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়—সবকিছুতেই তার নাম জড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীরা বলছেন, যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত চিত্র
মোহাম্মদ তানভীর হোসেন খুলনায় যোগদানের পর থেকে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে খুলনায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ডিলার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেছেন।
একাধিক অভিযোগকারী জানান, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারশিপ বাণিজ্যে তিনি লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। যারা ঘুষ দিতে পারেনি, তাদের ডিলারশিপ বাতিল বা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। গুদাম ঠিকাদারদের কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। খাদ্যশস্য বিতরণ, আটা মিল বরাদ্দ, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামেও সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক।
পটভূমি ও যোগদানের পর অবস্থা
মোহাম্মদ তানভীর হোসেন খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। যোগদানের মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ। এর মধ্যে গুদাম সংক্রান্ত কাজ থেকে ২ কোটি, ওএমএস ডিলার থেকে ৩ কোটি, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে ৫ কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি অফিসকে ‘বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান’ বানিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেকটি ফাইল চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ‘রেট’ ঠিক করা হয়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে টাকা না পেলে বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো খাদ্য বিভাগের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস। অভিযোগকারীরা বলেন, তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রি করেছে। প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে শতাধিক প্রার্থী উপকৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় খুলনা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করে তার অপসারণ দাবি করে। জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিতে বলা হয়, “একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে পুরো খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।”
ঘুষ বাণিজ্যের ধরন
১. ওএমএস ডিলারশিপ: নতুন ডিলারশিপ পেতে ১০-২০ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। পুরনো ডিলারদের বরাদ্দ বাড়াতে লাখ টাকা করে দিতে হয়।
২. গুদাম ও ঠিকাদারি: খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়।
৩. মিলারদের কাছ থেকে ঘুষ: আটা ও চাল মিল বরাদ্দে অনিয়ম।
৪. কর্মচারী বদলি: গুদামে পোস্টিংয়ের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
দুদকের তদন্ত ও মামলা
দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি কেনার তথ্যও উঠে এসেছে।
একজন ভুক্তভোগী ডিলার বলেন, “তিনি আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ডিলারশিপ দিয়েছিলেন। পরে আরও টাকা চেয়ে হয়রানি করেন।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
খুলনায় তার বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বড় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিলার সমিতি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন তার অপসারণ দাবি করে। পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।
দুর্নীতির প্রভাব
এই দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি চাল-আটা পৌঁছায়নি ঠিকমতো। দুর্নীতি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে পুরো বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে। দুদকের উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা বাজারে মাংসের খাটিয়া অরক্ষিত রাখার অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিসি ফুডের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াল থাবা: দুদকের মামলায় জর্জরিত মোহাম্মদ তানভীর হোসেন

আপলোড সময় ০৬:৫০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অভিযোগের পাহাড় জমেছে। স্থানীয় ডিলার, মিলার, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগে অভিযোগে তিনি দুর্নীতির ‘ভয়াল থাবায়’ পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একাধিক মামলায় জর্জরিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনরোষ চরমে পৌঁছেছে।
খুলনা খাদ্য বিভাগকে নাকি তিনি ‘ঘুষের আখড়ায়’ পরিণত করেছেন। ওএমএস ডিলারশিপ বাণিজ্য, গুদাম বরাদ্দ, কর্মচারী নিয়োগ, মিলারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়—সবকিছুতেই তার নাম জড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীরা বলছেন, যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত চিত্র
মোহাম্মদ তানভীর হোসেন খুলনায় যোগদানের পর থেকে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে খুলনায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ডিলার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেছেন।
একাধিক অভিযোগকারী জানান, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারশিপ বাণিজ্যে তিনি লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। যারা ঘুষ দিতে পারেনি, তাদের ডিলারশিপ বাতিল বা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। গুদাম ঠিকাদারদের কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। খাদ্যশস্য বিতরণ, আটা মিল বরাদ্দ, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামেও সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক।
পটভূমি ও যোগদানের পর অবস্থা
মোহাম্মদ তানভীর হোসেন খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। যোগদানের মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ। এর মধ্যে গুদাম সংক্রান্ত কাজ থেকে ২ কোটি, ওএমএস ডিলার থেকে ৩ কোটি, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে ৫ কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি অফিসকে ‘বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান’ বানিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেকটি ফাইল চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ‘রেট’ ঠিক করা হয়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে টাকা না পেলে বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো খাদ্য বিভাগের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস। অভিযোগকারীরা বলেন, তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রি করেছে। প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে শতাধিক প্রার্থী উপকৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় খুলনা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করে তার অপসারণ দাবি করে। জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিতে বলা হয়, “একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে পুরো খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।”
ঘুষ বাণিজ্যের ধরন
১. ওএমএস ডিলারশিপ: নতুন ডিলারশিপ পেতে ১০-২০ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। পুরনো ডিলারদের বরাদ্দ বাড়াতে লাখ টাকা করে দিতে হয়।
২. গুদাম ও ঠিকাদারি: খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়।
৩. মিলারদের কাছ থেকে ঘুষ: আটা ও চাল মিল বরাদ্দে অনিয়ম।
৪. কর্মচারী বদলি: গুদামে পোস্টিংয়ের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
দুদকের তদন্ত ও মামলা
দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি কেনার তথ্যও উঠে এসেছে।
একজন ভুক্তভোগী ডিলার বলেন, “তিনি আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ডিলারশিপ দিয়েছিলেন। পরে আরও টাকা চেয়ে হয়রানি করেন।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
খুলনায় তার বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বড় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিলার সমিতি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন তার অপসারণ দাবি করে। পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।
দুর্নীতির প্রভাব
এই দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি চাল-আটা পৌঁছায়নি ঠিকমতো। দুর্নীতি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে পুরো বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে। দুদকের উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া।