ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পাটকেলঘাটা বাজারে মাংসের খাটিয়া অরক্ষিত রাখার অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নিয়োগ-প্রমোশনে অনিয়মের অভিযোগ: ৬৯ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ খাদ্য পরিদর্শকরা

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে সম্প্রতি ৬৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন, সিনিয়রিটি উপেক্ষা এবং যোগ্যতার শর্ত না মানার অভিযোগ তুলেছেন খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের খাদ্য পরিদর্শকরা। বিষয়টি নিয়ে তারা খাদ্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাদ্য পরিদর্শক থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতির জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক পদোন্নতি তালিকায় এমন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাদের প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অনেক যোগ্য ও সিনিয়র কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
খাদ্য পরিদর্শকদের দাবি, সরকারি চাকরি বিধিমালা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি তালিকা অনুসরণ করা আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক কর্মকর্তা উপেক্ষিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ও তদবিরের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্য পরিদর্শক সমিতির নেতারা বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য পরিদর্শকরা। খাদ্য গুদামের কার্যক্রম তদারকি, সরকারি চাল ও গম সংগ্রহ, ওএমএস কর্মসূচি পরিচালনা, খাদ্যশস্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
সমিতির এক নেতা বলেন, “যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদোন্নতি না হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদোন্নতি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।”
খাদ্য পরিদর্শকদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরি বিধিমালা-২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। দ্রুততার সঙ্গে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি দিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এ ধরনের পদোন্নতি প্রক্রিয়া প্রশাসনে বৈষম্য সৃষ্টি করবে এবং কর্মক্ষেত্রে মনোবল হ্রাস করবে। তারা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
খাদ্য পরিদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। তবে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, খাদ্য অধিদপ্তরে অতীতেও বিভিন্ন নিয়োগ, ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সিনিয়রিটির যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে মাঠপর্যায়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
খাদ্য পরিদর্শকদের দাবি, প্রশাসনের স্বার্থে এবং কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিতর্কিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা বাজারে মাংসের খাটিয়া অরক্ষিত রাখার অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

নিয়োগ-প্রমোশনে অনিয়মের অভিযোগ: ৬৯ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ খাদ্য পরিদর্শকরা

আপলোড সময় ০৩:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে সম্প্রতি ৬৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন, সিনিয়রিটি উপেক্ষা এবং যোগ্যতার শর্ত না মানার অভিযোগ তুলেছেন খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের খাদ্য পরিদর্শকরা। বিষয়টি নিয়ে তারা খাদ্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাদ্য পরিদর্শক থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতির জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক পদোন্নতি তালিকায় এমন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাদের প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অনেক যোগ্য ও সিনিয়র কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
খাদ্য পরিদর্শকদের দাবি, সরকারি চাকরি বিধিমালা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি তালিকা অনুসরণ করা আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক কর্মকর্তা উপেক্ষিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ও তদবিরের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্য পরিদর্শক সমিতির নেতারা বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য পরিদর্শকরা। খাদ্য গুদামের কার্যক্রম তদারকি, সরকারি চাল ও গম সংগ্রহ, ওএমএস কর্মসূচি পরিচালনা, খাদ্যশস্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
সমিতির এক নেতা বলেন, “যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদোন্নতি না হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদোন্নতি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।”
খাদ্য পরিদর্শকদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরি বিধিমালা-২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। দ্রুততার সঙ্গে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি দিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এ ধরনের পদোন্নতি প্রক্রিয়া প্রশাসনে বৈষম্য সৃষ্টি করবে এবং কর্মক্ষেত্রে মনোবল হ্রাস করবে। তারা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
খাদ্য পরিদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। তবে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, খাদ্য অধিদপ্তরে অতীতেও বিভিন্ন নিয়োগ, ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সিনিয়রিটির যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে মাঠপর্যায়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
খাদ্য পরিদর্শকদের দাবি, প্রশাসনের স্বার্থে এবং কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিতর্কিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।