ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার ঠাকুরগাঁওয়ে ধানক্ষেত থেকে তাঁতি দল নেতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আমার কোনো দুর্নাম নেই, তারপরও ভাইরাল করা হচ্ছে—এটা মানহানিকর’: রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিম আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে বিএনপির: ইয়ারুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে একদলীয় আধিপত্য, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক পতনের ভিত্তি নিজেরাই তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গৃহপালিত দল “জাতীয় পার্টি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলকেই আওয়ামী লীগ শত্রুতে পরিণত করেছিল। বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দীর্ঘদিন কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের পথও রুদ্ধ করা হয়েছিল।”

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে অবিশ্বাসের সংকটে ফেলে দেয়।

ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস নিবন্ধনের সব শর্ত পূরণ করলেও আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দিতে বাধ্য হয়। তাঁর ভাষায়, “এটি ছিল রাজনৈতিক বৈষম্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।”

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শুধু জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নির্বাচন ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছিল। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইয়ারুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমালঙ্ঘন, বিরোধী মত দমন এবং জবাবদিহির অভাব আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছিল। এসব কারণেই দলটির প্রতি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা ও বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুম, নির্যাতন, কথিত “আয়নাঘর”, নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়ম, ঘুষ, ব্যাংক খাতে ঋণ জালিয়াতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা, শেয়ারবাজারের ধস, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে শিল্প ও বিনিয়োগে স্থবিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো নানা ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘটেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটি দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন।

বিবৃতির শেষাংশে বিএনপির উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিএনপিও যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের পথ বেছে নেয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসে, তবে আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি এড়ানো কঠিন হবে। আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়া সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।”

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে স্বচ্ছতার উদ্যোগ, দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করছেন চেয়ারম্যান-রেজিস্ট্রার

আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে বিএনপির: ইয়ারুল ইসলাম

আপলোড সময় ০২:২৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে একদলীয় আধিপত্য, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক পতনের ভিত্তি নিজেরাই তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গৃহপালিত দল “জাতীয় পার্টি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলকেই আওয়ামী লীগ শত্রুতে পরিণত করেছিল। বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দীর্ঘদিন কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের পথও রুদ্ধ করা হয়েছিল।”

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে অবিশ্বাসের সংকটে ফেলে দেয়।

ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস নিবন্ধনের সব শর্ত পূরণ করলেও আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দিতে বাধ্য হয়। তাঁর ভাষায়, “এটি ছিল রাজনৈতিক বৈষম্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।”

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শুধু জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নির্বাচন ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছিল। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইয়ারুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমালঙ্ঘন, বিরোধী মত দমন এবং জবাবদিহির অভাব আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছিল। এসব কারণেই দলটির প্রতি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা ও বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুম, নির্যাতন, কথিত “আয়নাঘর”, নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়ম, ঘুষ, ব্যাংক খাতে ঋণ জালিয়াতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা, শেয়ারবাজারের ধস, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে শিল্প ও বিনিয়োগে স্থবিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো নানা ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘটেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটি দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন।

বিবৃতির শেষাংশে বিএনপির উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিএনপিও যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের পথ বেছে নেয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসে, তবে আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি এড়ানো কঠিন হবে। আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেওয়া সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।”