ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের মানুষ মাদকের ভয়াবহ যন্ত্রণায় রয়েছে: এসপি রূপগঞ্জে ৫৪টি চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ২ খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কেরাত ও নাতে মুস্তাফা প্রতিযোগিতা সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্স সহ ডিবির হাতে দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার তালায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্র শিবির খুলনায় অস্ত্র, গুলিসহ সন্ত্রাসী শুটার আরমান গ্রেফতার তালায় আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত কেসিসির ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা

সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্স সহ ডিবির হাতে দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ও মাদক কারবারিদের সাথে যোগসাজুর রাখার ঘটনায় সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। পুলিশ সদস্য যখন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত, তখন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার নিজস্ব ইউনিট তাদের নজরদারিতে রাখে। তার‌ই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় পাঁচটার দিকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ(মাদক)সহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ (কনস্টেবল নম্বর ১২২৮) এবং কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের ডিএসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে নাজমুল ইসলাম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকার একটি দোকানে বসে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা বিক্রির তথ্য উঠে আসে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করতেন। এ কাজে দোকানের মালিক তাইফুর তাকে সহযোগিতা করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির পর সোমবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোরেক্স সিরাপ উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের মানুষ মাদকের ভয়াবহ যন্ত্রণায় রয়েছে: এসপি

সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্স সহ ডিবির হাতে দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

আপলোড সময় ১০:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ও মাদক কারবারিদের সাথে যোগসাজুর রাখার ঘটনায় সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। পুলিশ সদস্য যখন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত, তখন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার নিজস্ব ইউনিট তাদের নজরদারিতে রাখে। তার‌ই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় পাঁচটার দিকে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ(মাদক)সহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ (কনস্টেবল নম্বর ১২২৮) এবং কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের ডিএসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে নাজমুল ইসলাম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকার একটি দোকানে বসে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা বিক্রির তথ্য উঠে আসে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করতেন। এ কাজে দোকানের মালিক তাইফুর তাকে সহযোগিতা করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির পর সোমবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোরেক্স সিরাপ উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।