মাদকে ছেয়ে গেছে যশোর শহরের রায়পাড়া, সাড়অফিস, আলতাফেরমোড়, ইসমাইলকলোনী, ও তাবৎ রেলগেট, আলীগড় মসজিদ রোড, চোরমারা দীঘির পাড়, ডালমিল এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে কলাবাগান পাড়া, সাধারণ নগরবাসি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবি সন্তানদের নিয়ে যার পর নাই বিচলিত হয়ে পড়েছে। মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলী এই মাদক সাম্রাজ্য সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।
যশোর রেলগেট রায়পাড়ায় অবৈধ মাদক দ্রব্য ও মাদক কারবারিদের একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রশাসন সামাজিক ও রাজনৈতিক কোন নিষেধ মানছে না এসব অপকর্মকারী মাদক কারবারিরা। রেলগেট পশ্চিমপাড়ার লাইলী এই মাদক ব্যাবসার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। ডিলার এজেন্ট মিলিয়ে এই মাদক নেটওয়ার্কটি শতজনের অবৈধ মাদক সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, আরো দুই দশক আগে লাইলীর অপরাধ জগতে হাতে খড়ি। স্বামী আব্দুল খালেকের মৃত্যুর পর সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের নজির কে বিয়ে করে। চোরাকারবারি নজিরের মাধ্যমে তার এই অপরাধ জগতে আবির্ভাব। রাজনৈতিক নেতা, ক্যাডার ও কিলার হাতে নিয়ে প্রশাসনের কোন কোন দুষ্ট কর্তা হাতে নিয়ে সে এখন নিজের মাদক সন্ত্রাস বলয় গড়ে তুলেছে। এখন পারিবারিক তার প্রায় সব স্বজন এই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বাঁধা হতে পারে ভেবে পথের কাঁটা আওয়ামীলীগ ক্যাডার ফায়েকের ছেলে সাগর ও রমজান দুই ভাইকে সে খুন করিয়েছে। মূলত মাদক ব্যাবসার আধিপত্য কেন্দ্রিক ঐ দুই ভাই খুন হয়।
সূত্র জানায় লাইলীর আদি বাড়ি নড়াইলে। সেখানে তার ভাই গোলাম এখন মাদক কারবারি। এখন সে রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় বসবাস করে। তবে শহরতলির বেড়বাড়িতে তার একটি বাড়ি রয়েছে।
লাইলীর যশোরে প্রধান মাদক সহযোগীরা হচ্ছে বোন কবু, ছেলে শুকুর, মেয়ে সুমী, সতীনের ছেলে পুরাতনকসবার তপন, আওয়ামীলীগ ক্যাডার রেলগেটের পান দোকানদার সালামের ছেলে দেলো। দেলোর পিতা সালাম বাগেরহাট থেকে যশোরে এসেছেন।
লাইলীর এজেন্ট আলমগীর বর্তমানে জেলে। সেপ্টেম্বর মাসে ডিবি পুলিশের অভিযানে সে ৫০০ পিচ ইয়াবাসহ আটক হয়।
আরো গুরুতর অভিযোগ এই যে লাইলীর পরিবারের সদস্যরা হজে যায় চলতি বছরে। হজে সতীনের ছেলে তপন ছিল। তার যশোর শহরের পুরাতন কসবায় বাড়ি।
চৌগাছার কূলে সীমান্ত দিয়ে এই সিন্ডিকেট ফেন্সি ও অস্ত্র আনে। তবে নিয়ন্ত্রণকারী নজির যে কিনা লাইলীর আরেক স্বামী মারা গেছে। চলতি বছরের এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে বড় একটি গরু কুরবানী দিয়েছে লাইলী। এসব কারণে তার দম্ভ বেজায়। সে লোক শুনিয়ে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় মাসে থানায় ৩২ হাজার টাকা দিই। রাব এ দিই মাসে আরো ৫০ হাজার টাকা। আমাকে ছোঁয়া অত সহজ নয়। অথচ কদিন আগে তার নুন আনতে পান্তা ফুরানোর করুণ দশা ছিল।
লাইলীর মাদক সিন্ডিকেটের আরো সদস্য হচ্ছে, মৃত হিজড়া আবুলের বৌ মনো, হিজড়া আবুলের তিন ছেলে রতন, মানিক ও মাসুদ। রিক্সচালক শহিদুলের বৌ জোৎস্না, রায়পাড়ার করিম লাইলীর আত্মীয়। করিমের ছেলে সবুজ ও মিন্টু মাদক কারবারি। মিন্টু মেয়ে ছেলে দিয়ে দেহ ব্যবসা করে। করিমের বৌ ব্যবসা করে। এছাড়া
কানা বাসারের ছেলে তুহিন, কানা বাসারের বৌ হামু, মৃত নুর ইসলামের ছেলে সোহেল, ষষ্ঠীতলার মরার বৌ আসমা, শহীদ ড্রাইভারের বৌ হাসিনা, দুই মেয়ে জোৎস্না ও শিলা মাদক কারবারে জড়িত। শহীদের স্ত্রী হাসিনা তিনটি ইজিবাইক ৭ রিক্সা করেছে এই অবৈধ মাদক কারবার করে।
এছাড়া লাইলীর মাদক কারবারে এজেন্ট পিচ্চি রাজার বৌ পিয়া। পিচ্চি রাজার শাশুড়ি রায়পাড়ার নুর ইসলাম ড্রাইভারের শালী। তুলোতলার হারুন কাজীর ছেলে আক্তারের মেয়ে পিয়া। মোটা শাহীন মোটা শাহিনের ছেলে শুভ মাদক কারবারে জড়িত। এরা আলাদা মাদক কারবার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ছোটর বৌ , ছেলে মরা মাদক কারবারে দীর্ঘদিন সম্প্রীক্ত।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন স্থানীয় দু একজন বিএনপি নেতা এই মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলী কে মদদ দিচ্ছে।
সংবাদ শিরোনাম
যশোর রেলগেটে মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলীর নেতৃত্বে শত জনের রমরমা মাদক সিন্ডিকেট
-
যশোর অফিস - আপলোড সময় ০৩:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- 10
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















