ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সুন্দরবনের জলদস্যু সম্রাট বাহিনীর কবল থেকে ৪ জেলে উদ্ধার সুন্দরবনের জলদস্যু আলিফ বাহিনীর লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ওয়াকিটকি ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার বহিরাগত দিয়ে সংবাদ সম্মেলন মানেই নিজেকে দোষী প্রমাণ করা: DRU-তে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হেনস্থা কন্যাশিশু দিবসে পীরগঞ্জ প্রশাসনের ‘দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা’: জনমনে ক্ষোভ যশোর রেলগেটে মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলীর নেতৃত্বে শত জনের রমরমা মাদক সিন্ডিকেট ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে আসছে মানব কণ্ঠের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোস্তাকিম নিবিড়ের ‘পূর্ণতা’ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রূপগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শিমু’র ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

কন্যাশিশু দিবসে পীরগঞ্জ প্রশাসনের ‘দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা’: জনমনে ক্ষোভ

উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে “দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা” ও চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—ব্যানারে লেখা এই স্লোগান বাস্তবে থাকলেও কেবল উপজেলা চত্বরের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ।দিবসটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যেখানে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সেখানে কেবল সংক্ষিপ্ত একটি মানববন্ধনের মধ্য দিয়েই উদযাপনের সমাপ্তি ঘটিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ দিবসটি পালন করা হয়। তবে জনসমাগমপূর্ণ শহরের প্রধান সড়কে র‍্যালি না করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের চত্বরেই কর্মসূচি শেষ করায় প্রশ্ন উঠেছে দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও সঠিক বিকাশের স্বার্থে শুধু দিবস কেন্দ্রিক লোকদেখানো আয়োজন বন্ধ করে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মহল। কন্যাশিশু দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু শহরের মূল রাস্তায় না গিয়ে উপজেলা চত্বরের ভেতরের ফাঁকা চত্বরে র‍্যালি করায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো সংযোগই তৈরি হয়নি। সচেতনতা তৈরির চেয়ে এটি নিছক ‘কাগজে-কলমে দায়িত্ব পালন’ বলে দাবি করেন তাঁরা।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দিবসটি পালনে প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও আনুষ্ঠানিকতার মনোভাব অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা জানান, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা, বাল্যবিয়ে রোধ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন কেবল খাতায় নাম লেখাতে এবং ছবি তোলার জন্যই এমন নামকাওয়াস্তে আয়োজন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গুনীশিক্ষক বলেন, “কন্যাশিশু দিবস শুধু একটি র‍্যালি বা মানববন্ধনের দিন নয়, এটি একটি চেতনার দিন। যদি বিদ্যালয়গুলোর ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করে কোনো আলোচনা সভা বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো, তবে সচেতনতা বাড়ত। এ ধরনের দায়সারা আয়োজন সরকার বা প্রশাসনের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকলেও আয়োজনের এমন পরিধি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার বিভিন্ন দিবস পালনের নির্দেশ দিলে এই উপজেলায় শুধু উপজেলা চত্বরেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। সরকারের উদ্দেশ্য থাকে বার্তাটি জনগণের সামনে তুলে ধরা, কিন্তু এখানে তা কখনো হয় না। আজকের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের আলোচনা সভাতেও সাধারণ মানুষের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।”

কর্মসূচি কেবল উপজেলা চত্বরে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন বলেন, “দিবসটি সরকারি নির্দেশনা অনুসারেই পালিত হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আমি জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। পীরগঞ্জে র‍্যালি কোথা থেকে কোথায় গেছে তা আমার জানা নেই; বিষয়টি ইউএনও ভালো বলতে পারবেন।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে দুই দফা তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তৃতীয়বার সংযোগ পেলেও তিনি বলেন, “আমি একটি জুম মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সাথে কথা বলব।”

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের জলদস্যু সম্রাট বাহিনীর কবল থেকে ৪ জেলে উদ্ধার

কন্যাশিশু দিবসে পীরগঞ্জ প্রশাসনের ‘দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা’: জনমনে ক্ষোভ

আপলোড সময় ০৯:১৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে “দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা” ও চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—ব্যানারে লেখা এই স্লোগান বাস্তবে থাকলেও কেবল উপজেলা চত্বরের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ।দিবসটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যেখানে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সেখানে কেবল সংক্ষিপ্ত একটি মানববন্ধনের মধ্য দিয়েই উদযাপনের সমাপ্তি ঘটিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ দিবসটি পালন করা হয়। তবে জনসমাগমপূর্ণ শহরের প্রধান সড়কে র‍্যালি না করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের চত্বরেই কর্মসূচি শেষ করায় প্রশ্ন উঠেছে দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও সঠিক বিকাশের স্বার্থে শুধু দিবস কেন্দ্রিক লোকদেখানো আয়োজন বন্ধ করে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মহল। কন্যাশিশু দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু শহরের মূল রাস্তায় না গিয়ে উপজেলা চত্বরের ভেতরের ফাঁকা চত্বরে র‍্যালি করায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো সংযোগই তৈরি হয়নি। সচেতনতা তৈরির চেয়ে এটি নিছক ‘কাগজে-কলমে দায়িত্ব পালন’ বলে দাবি করেন তাঁরা।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দিবসটি পালনে প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও আনুষ্ঠানিকতার মনোভাব অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা জানান, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা, বাল্যবিয়ে রোধ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন কেবল খাতায় নাম লেখাতে এবং ছবি তোলার জন্যই এমন নামকাওয়াস্তে আয়োজন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গুনীশিক্ষক বলেন, “কন্যাশিশু দিবস শুধু একটি র‍্যালি বা মানববন্ধনের দিন নয়, এটি একটি চেতনার দিন। যদি বিদ্যালয়গুলোর ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করে কোনো আলোচনা সভা বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো, তবে সচেতনতা বাড়ত। এ ধরনের দায়সারা আয়োজন সরকার বা প্রশাসনের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকলেও আয়োজনের এমন পরিধি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার বিভিন্ন দিবস পালনের নির্দেশ দিলে এই উপজেলায় শুধু উপজেলা চত্বরেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। সরকারের উদ্দেশ্য থাকে বার্তাটি জনগণের সামনে তুলে ধরা, কিন্তু এখানে তা কখনো হয় না। আজকের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের আলোচনা সভাতেও সাধারণ মানুষের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।”

কর্মসূচি কেবল উপজেলা চত্বরে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন বলেন, “দিবসটি সরকারি নির্দেশনা অনুসারেই পালিত হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আমি জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। পীরগঞ্জে র‍্যালি কোথা থেকে কোথায় গেছে তা আমার জানা নেই; বিষয়টি ইউএনও ভালো বলতে পারবেন।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে দুই দফা তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তৃতীয়বার সংযোগ পেলেও তিনি বলেন, “আমি একটি জুম মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সাথে কথা বলব।”